আমিরাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে ড্রোন হামলা
- আপডেট সময় ০৮:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / 79
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিতে অবস্থিত অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র’-এর মূল সীমানার বাইরে একটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৭ মে) সংঘটিত এই ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানার ঠিক বাইরে থাকা একটি বাহ্যিক বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন ধরে যায় বলে দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সংবাদসংস্থা এপি (AP)-এর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
আবুধাবি মিডিয়া অফিসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আল ধাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল সীমানার বাইরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। তবে ঘটনার পরপরই স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট জরুরি উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্বস্তির বিষয় হলো, এই আকস্মিক হামলায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হামলার পর আমিরাতের পারমাণবিক খাতের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফেডারেল অথরিটি ফর নিউক্লিয়ার রেগুলেশন’ (এফএএনআর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি বার্তায় আন্তর্জাতিক মহল ও দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করেছে। তারা জানায়, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। কেন্দ্রটির চারপাশের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে এই পরমাণু কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট বরাবরের মতোই সম্পূর্ণ সচল রয়েছে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া বজায় রেখেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই বিপজ্জনক ড্রোন হামলা চালানো হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকেও সরকারিভাবে এই হামলার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো দেশ, গোষ্ঠী বা সংগঠনের হাত রয়েছে বলে সরাসরি দাবি করা হয়নি। এ ছাড়া ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ (আইএইএ) এই স্পর্শকাতর হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরো আরব উপদ্বীপের প্রথম এবং একমাত্র সচল পারমাণবিক স্থাপনা। ইরান সংকটের পর এই প্রথম চার চুল্লিবিশিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত এই স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো। কেন্দ্রটি মূলত সৌদি আরব সীমান্তের কাছাকাছি আবুধাবির প্রত্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত।

























