ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা স্থায়ী শান্তির পথ খুলতে পারে: পাক প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০১:২২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / 72
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মাঝেই আশার বাণী শুনিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা একটি স্থায়ী ও কার্যকর শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসন ও ইরান সরকারের মধ্যে পারস্পরিক উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য-বিবৃতি অনেক বাড়লেও পাকিস্তান এই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পর্দার আড়াল থেকে এখনো সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, “ইরান, মার্কিন প্রশাসন থেকে শুরু করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো—সব পক্ষেরই পূর্ণ আস্থা রয়েছে পাকিস্তানের ওপর।” মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামাবাদের এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “শান্তি কখনো সহজে অর্জিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন গভীর ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।”
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই আশাবাদের বিপরীতে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে। ব্রিকস (BRICS) ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে ভারতের নতুন দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দুই দেশের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক আলোচনা মূলত এক গভীর ‘বিশ্বাস সংকটে’ ভুগছে।
মার্কিন প্রশাসনের অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে আরাগচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস না করার মতো শত শত যৌক্তিক কারণ ইরানের আছে। তবে এর বিপরীতে আমাদের (ইরানকে) বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট কারণ কিন্তু আমেরিকানদের রয়েছে।” মূলত ওয়াশিংটনের পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও আগের চুক্তিগুলো থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতাই এই আলোচনার অগ্রগতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

























