ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পরপরই নিজেদের ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম’ দাবি করল তাইওয়ান
- আপডেট সময় ১১:৫২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / 75
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা না করার জন্য কড়া সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই নিজেদের ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র’ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে তাইওয়ান। গতকাল শনিবার (১৬ মে) তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র কারেন কুও এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানান, তাইওয়ান একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম, স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টি জানা গেছে। কারেন কুও ট্রাম্পের বার্তার জবাবে আরও বলেন, “তাইওয়ান চীনের সঙ্গে বিদ্যমান স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কুও) বজায় রাখতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাইওয়ান নতুন করে চীন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না, আবার বেইজিংয়ের সঙ্গে একীভূতও হবে না।”
এর আগে দুই দিনের বেইজিং সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তাইওয়ানকে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, “কাউকে (তাইওয়ান) নতুন করে স্বাধীন করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা বা পরিকল্পনা আমার নেই।” ট্রাম্পের এমন আকস্মিক বক্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের বিপরীতে নিজের আগের অবস্থানই ধরে রেখেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, তাইওয়ানের জন্য নতুন করে বা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, বৈশ্বিক রাজনীতি ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর দিক থেকে তাইওয়ান এরই মধ্যে নিজেকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালনা করছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং মার্কিন আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে বেইজিং বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের হুমকিও দিয়ে রেখেছে।
বেইজিং সফরকালে ট্রাম্পকে সতর্ক করে শি জিনপিং অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে বিদ্যমান বিরোধ যদি ওয়াশিংটন ঠিকঠাকমতো সামলাতে না পারে, তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। শি জিনপিংয়ের এই হুমকির পরেই ট্রাম্পের তাইওয়ান নীতিতে এমন নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেল।

























