ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে: হুঁশিয়ারি: ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 89

ছবি সংগৃহীত

গত মাসে অর্জিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবারও চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক হুঁশিয়ারি বার্তায় জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি শান্তিচুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি না হলে তেহরানের জন্য সামনে ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইরানের জন্য আলোচনার টেবিলে সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সম্প্রতি নিজের চীন সফরে ইরান ইস্যুতে বড় কোনো অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে পারেননি ট্রাম্প।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি ব্যাপক জোরদার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই নতুন অভিযান চালানো হতে পারে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের “গোল্ডেন ডোম” ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পে শীর্ষে স্পেসএক্স

বিশেষ করে, পূর্বে ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারের জন্য বিশেষ মার্কিন কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এই অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে; কারণ সেখানে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে, ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস (BRICS) বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তেহরান এখনও যেকোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী বার্তা ও অতীত হামলার অভিজ্ঞতার কারণে তারা ওয়াশিংটনের ওপর বিন্দুমাত্র আস্থা রাখতে পারছে না। আরাঘচি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শেষে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি নতুন নিজস্ব তদারকি ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো আনার পরিকল্পনা করছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্ভূত এই সামরিক টানাপোড়েনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানি বন্দর অবরোধের মুখে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের নিয়মিত রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে।

এর ওপর ইরান ওই প্রণালি ব্যবহারের জন্য বিশেষ ফি আরোপের ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করেছে এবং ইরানে নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই চরম সংকটের মধ্যেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এক ফোনালাপে যেকোনো উপায়ে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

পাশাপাশি, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তেহরান সফর করে আঞ্চলিক সংলাপ ও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রেখে একটি নতুন টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানোই এখন বিশ্ব কূটনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের জন্য ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে: হুঁশিয়ারি: ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৯:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

গত মাসে অর্জিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবারও চরম উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক হুঁশিয়ারি বার্তায় জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি শান্তিচুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি না হলে তেহরানের জন্য সামনে ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইরানের জন্য আলোচনার টেবিলে সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সম্প্রতি নিজের চীন সফরে ইরান ইস্যুতে বড় কোনো অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে পারেননি ট্রাম্প।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি ব্যাপক জোরদার করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই নতুন অভিযান চালানো হতে পারে।

আরও পড়ুন  লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল।

বিশেষ করে, পূর্বে ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারের জন্য বিশেষ মার্কিন কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। অবশ্য মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এই অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে; কারণ সেখানে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে, ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস (BRICS) বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তেহরান এখনও যেকোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী বার্তা ও অতীত হামলার অভিজ্ঞতার কারণে তারা ওয়াশিংটনের ওপর বিন্দুমাত্র আস্থা রাখতে পারছে না। আরাঘচি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শেষে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি নতুন নিজস্ব তদারকি ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো আনার পরিকল্পনা করছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্ভূত এই সামরিক টানাপোড়েনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানি বন্দর অবরোধের মুখে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের নিয়মিত রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে।

এর ওপর ইরান ওই প্রণালি ব্যবহারের জন্য বিশেষ ফি আরোপের ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করেছে এবং ইরানে নিত্যপণ্যের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই চরম সংকটের মধ্যেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এক ফোনালাপে যেকোনো উপায়ে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

পাশাপাশি, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তেহরান সফর করে আঞ্চলিক সংলাপ ও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রেখে একটি নতুন টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানোই এখন বিশ্ব কূটনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।