বেইজিং ত্যাগের আগে চীনের দেওয়া সব উপহার ডাস্টবিনে ফেলল যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় ০৪:২১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 89
চীনের বেইজিংয়ে দুই দিনের দ্বিপাক্ষিক সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার ঠিক আগমুহূর্তে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। বেইজিং ছাড়ার সময় চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সব ধরনের উপহারসামগ্রী ও স্মারক গ্রহণ না করে তা বিমানের সিঁড়ির গোড়ায় রাখা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তি, সাইবার হামলা ও ট্র্যাকিং বা নজরদারির সুনির্দিষ্ট শঙ্কা থেকেই কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বেইজিং ক্যাপিটাল এয়ারপোর্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠার আগে এই ঘটনা ঘটে। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বিভাগ ও সিক্রেট সার্ভিসের কঠোর নির্দেশনায় চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া বার্নার ফোন, পরিচয়পত্র, মেম্বারশিপ ব্যাজ, প্রেস আমন্ত্রণপত্র এবং বিভিন্ন স্মারক সংগ্রহ করে বিমানের সিঁড়ির নিচেই একটি আবর্জনার বাক্সে ফেলে দেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা এমিলি গডিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছেন, “মার্কিন কর্মীরা চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সব জিনিস—যেমন পরিচয়পত্র, হোয়াইট হাউস স্টাফদের জন্য দেওয়া বার্নার ফোন, প্রতিনিধি দলের জন্য দেওয়া পিন বা ব্যাজ—সবকিছু সংগ্রহ করে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগেই সিঁড়ির গোড়ায় থাকা ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল, চীনের তৈরি বা চীন থেকে পাওয়া কোনো জিনিস বিমানে নেওয়া যাবে না।”
মার্কিন গোয়েন্দা ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, উন্নত প্রযুক্তির এই যুগে সাধারণ স্মারক বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ভেতরেও গোপনে ট্র্যাকিং ডিভাইস, ম্যালওয়্যার বা আড়ি পাতার সরঞ্জাম লুকানো থাকতে পারে। তাই ঝুঁকি এড়াতে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমনকি এই চীন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গী হওয়া মার্কিন প্রতিনিধি দল (যার মধ্যে ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংও ছিলেন) নিজেদের ব্যক্তিগত কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস চীন নিয়ে যাননি। পুরো সফরে তারা কেবল সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘ক্লিন’ বার্নার ফোন ও ইমেইল ব্যবহার করেছেন।
ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই দেশের মধ্যকার এই সাইবার যুদ্ধ ও অনাস্থার কথা স্বীকার করে রসিকতার সুরে বলেন, “এগুলো তো থাকবেই, কারণ আমরাও তাদের ওপর ব্যাপকভাবে গুপ্তচরবৃত্তি করি।” দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকটি জনসমক্ষে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ মনে হলেও, পর্দার আড়ালে যে গভীর অবিশ্বাস ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে—এই ঘটনা যেন তারই প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ। সামাজিক মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

























