যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াল
- আপডেট সময় ১১:১৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 82
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দুই দিনের ফলপ্রসূ সংলাপ শেষে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল এবং লেবানন।
গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার চলমান সংঘাতের সাময়িক অবসান ও স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আরও জোরদার হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ওয়াশিংটনে ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যকার দুই দিনের সংলাপটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল দুই দেশ যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, এই সংলাপের মধ্য দিয়ে তার মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হলো।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ ইরানে মার্কিন বাহিনীর বিমান অভিযানের পর ২ মার্চ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নির্মূলের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
টানা প্রায় দেড় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে ১৬ এপ্রিল প্রথম দফায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যার মেয়াদ আগামী রবিবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিরতির মেয়াদ বাড়ল।
২ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত আইডিএফের অভিযানে দক্ষিণ লেবাননে ২ হাজার ৮১৪ জন নিহত, ১২ হাজারেরও বেশি আহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গত এক মাসে আইডিএফের বিচ্ছিন্ন হামলায় বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপের বিশেষ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এর মাধ্যমে কয়েক দশক পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
এই আলোচনায় দুই দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তর পেন্টাগন দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় একটি নতুন ‘নিরাপত্তা লাইন’ প্রস্তাব করবে। এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আগামী ২ থেকে ৩ জুন ওয়াশিংটনে আবারও দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসবেন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা।
মার্কিন মুখপাত্র টমি পিগোট আশা প্রকাশ করে বলেন, এই ধারাবাহিক সংলাপ দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তির ভিত্তি মজবুত করতে, পরস্পরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
























