ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

আহত হলেও বেঁচে আছেন খামেনি: দাবি নেতানিয়াহুর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 91

ছবি সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি চালানো হামলায় আহত মোজতবা খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং গোপন স্থানে তার চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে তাকে বাবার তুলনায় ‘দুর্বল নেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। ওই দিন তার বাসভবনে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছেলে মোজতবা খামেনিও উপস্থিত ছিলেন। তবে অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পান বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠকের আগে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গণমাধ্যমের দাবি, তার শরীরে ইতিমধ্যে একাধিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে অত্যন্ত গোপনীয় স্থানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির এই চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন পেশায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে নতুন করে হামলার আশঙ্কা এবং নিরাপত্তার সর্বোচ্চ স্বার্থে তারা প্রকাশ্যে মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা থেকে বিরত রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে না এলেও তিনি জীবিত আছেন। তবে তাকে তার পিতার মতো প্রভাবশালী ও শক্তিশালী মনে করেন না নেতানিয়াহু। পাশাপাশি, যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, তা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কেউই আগে থেকে স্পষ্টভাবে অনুমান করতে পারেনি বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে এখনই লড়াই শেষ হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যে তেহরানের শক্তির মেরুদণ্ড দুর্বল করে দিয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আহত হলেও বেঁচে আছেন খামেনি: দাবি নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় ১০:৩২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, সম্প্রতি চালানো হামলায় আহত মোজতবা খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং গোপন স্থানে তার চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে তাকে বাবার তুলনায় ‘দুর্বল নেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। ওই দিন তার বাসভবনে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছেলে মোজতবা খামেনিও উপস্থিত ছিলেন। তবে অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পান বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ‘আমি যা বলব, নেতানিয়াহু সেটাই করবেন’: ট্রাম্পের মন্তব্য

হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গণমাধ্যমের দাবি, তার শরীরে ইতিমধ্যে একাধিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে অত্যন্ত গোপনীয় স্থানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির এই চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন পেশায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে নতুন করে হামলার আশঙ্কা এবং নিরাপত্তার সর্বোচ্চ স্বার্থে তারা প্রকাশ্যে মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা থেকে বিরত রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে না এলেও তিনি জীবিত আছেন। তবে তাকে তার পিতার মতো প্রভাবশালী ও শক্তিশালী মনে করেন না নেতানিয়াহু। পাশাপাশি, যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, তা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কেউই আগে থেকে স্পষ্টভাবে অনুমান করতে পারেনি বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে এখনই লড়াই শেষ হচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যে তেহরানের শক্তির মেরুদণ্ড দুর্বল করে দিয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।