ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

রাশিয়া-ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত, বিনিময় হবে দুই হাজার যুদ্ধবন্দি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 90

ছবি: সংগৃহীত

চার বছরেরও অধিক সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রথমবারের মতো সাময়িক বিরতির সুযোগ এলো। রাশিয়া ও ইউক্রেন আজ ৯ মে থেকে আগামী ১১ মে পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি পালনে একমত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখবে এবং প্রত্যেক দেশ এক হাজার করে মোট দুই হাজার যুদ্ধবন্দিকে ছেড়ে দেবে।

এই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুদ্ধরত দুই দেশকে অস্থায়ীভাবে লড়াই থামানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি, এবং উভয় সরকারই সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এজন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প।

যুদ্ধবিরতির এই সময়সীমা রাশিয়ার বিজয় দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয়কে স্মরণ করে প্রতি বছর ৯ মে এই দিনটি পালন করে রাশিয়া। ১৯৪৫ সালের ৮ মে জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল এবং সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতিতেই দিনটি বিজয় দিবস হিসেবে স্বীকৃত। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউক্রেনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তাই এই উপলক্ষটি উভয় দেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন  রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সীমান্তে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান

ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি সূচনাবিন্দু হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ সশস্ত্র সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং সমাধানের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্পের পোস্টের পরপরই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিশ্চিত করেন যে রাশিয়ার দেওয়া সম্মতিপত্র কিয়েভ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটো সদস্যপদে ইউক্রেনের আগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার জের ধরে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে। সেই অভিযান চার বছর পেরিয়েও এখনো চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়া-ইউক্রেন তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত, বিনিময় হবে দুই হাজার যুদ্ধবন্দি

আপডেট সময় ০৯:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

চার বছরেরও অধিক সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রথমবারের মতো সাময়িক বিরতির সুযোগ এলো। রাশিয়া ও ইউক্রেন আজ ৯ মে থেকে আগামী ১১ মে পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি পালনে একমত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক তৎপরতা স্থগিত রাখবে এবং প্রত্যেক দেশ এক হাজার করে মোট দুই হাজার যুদ্ধবন্দিকে ছেড়ে দেবে।

এই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুদ্ধরত দুই দেশকে অস্থায়ীভাবে লড়াই থামানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি, এবং উভয় সরকারই সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এজন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প।

যুদ্ধবিরতির এই সময়সীমা রাশিয়ার বিজয় দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয়কে স্মরণ করে প্রতি বছর ৯ মে এই দিনটি পালন করে রাশিয়া। ১৯৪৫ সালের ৮ মে জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল এবং সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতিতেই দিনটি বিজয় দিবস হিসেবে স্বীকৃত। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউক্রেনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তাই এই উপলক্ষটি উভয় দেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন  ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি: ট্রাম্প-পুতিন আলোচনায় অনেক বিষয়ে একমত

ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি সূচনাবিন্দু হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ সশস্ত্র সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং সমাধানের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্পের পোস্টের পরপরই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিশ্চিত করেন যে রাশিয়ার দেওয়া সম্মতিপত্র কিয়েভ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটো সদস্যপদে ইউক্রেনের আগ্রহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার জের ধরে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে। সেই অভিযান চার বছর পেরিয়েও এখনো চলছে।