কেনিয়ায় ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে ১৮ জনের মৃত্যু
- আপডেট সময় ১২:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / 94
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় টানা ভারী বর্ষণজনিত বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির থারাকা নিথি, এলজিও-মারাকওয়েট এবং কিয়াম্বু কাউন্টিতে একাধিক ভূমিধসের ঘটনায় এই প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৩ মে) এক বিবৃতিতে প্রশাসন জানায়, অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট কাদার স্রোতে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্যাকবলিত ও পাহাড়ের পাদদেশে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধসে ঘরবাড়ি হারিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রাজধানী নাইরোবির বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন চিত্রে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে কোমরসমান পানি এবং জনদুর্ভোগের দৃশ্য উঠে এসেছে।
টানা বৃষ্টিতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবসায়ীরা রোববার সড়ক সংস্কার ও সরকারি সহায়তার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর আগে থেকেই অতিবৃষ্টির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল। বিশেষজ্ঞদলের দাবি, এই বৈরি আবহাওয়ার ফলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির মাধ্যমে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গত মার্চ মাসেও নাইরোবিতে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এমন বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেনিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে বন্যা ও খরার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এই দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
বর্তমানে উদ্ধার অভিযান ও ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেনিয়া সরকার।

























