ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

তরমুজ খেয়ে ৪ জনের মৃত্যু ফরেনসিক পরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 236

ছবি: সংগৃহীত

মুম্বাইয়ে এক পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে শুরুতে তরমুজকে দায়ী করা হলেও, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই ভিন্ন চিত্র সামনে আসছে। জনপ্রিয় এই গ্রীষ্মকালীন ফলকে কেন্দ্র করে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখন অনেকটাই প্রশ্নের মুখে। প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, মৃত্যুর পেছনে তরমুজের চেয়ে আরও গুরুতর কোনো বিষাক্ত উপাদান বা জটিলতা জড়িত থাকতে পারে।

গত সপ্তাহে মারা যাওয়া পরিবারের চার সদস্য হলেন—৪৫ বছর বয়সি স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ ডোকাদিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসরিন এবং দুই কিশোরী কন্যা জয়নাব ও আয়েশা। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে রাতের খাবার শেষে গভীর রাতে তরমুজ খান। এরপর ভোরের দিকে তাঁরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চারজনের মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হয়েছিল যে তরমুজ থেকে এই বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু ফরেনসিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রের অংশে অস্বাভাবিক সবুজাভ পরিবর্তন দেখা গেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে সম্ভাব্য বিষক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করছে।

আরও পড়ুন  শ্রীপুরে ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ: দগ্ধ ইয়াসিনের মৃত্যু

সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ ডোকাদিয়ার শরীরে শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ‘মরফিন’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি কীভাবে তাঁর শরীরে প্রবেশ করল—চিকিৎসাজনিত কারণ, দুর্ঘটনাবশত গ্রহণ, নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক প্রেক্ষাপট, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তরমুজের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্কের কোনো প্রমাণ মেলেনি। সেই রাতের খাবারে উপস্থিত অন্যান্য আত্মীয়রা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। পুলিশ ‘আকস্মিক মৃত্যু’ (আনন্যাচারাল ডেথ) মামলা রুজু করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য মৃতদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুর রহস্য পুরোপুরি সমাধান করা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

তরমুজ খেয়ে ৪ জনের মৃত্যু ফরেনসিক পরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় ০৪:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মুম্বাইয়ে এক পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে শুরুতে তরমুজকে দায়ী করা হলেও, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই ভিন্ন চিত্র সামনে আসছে। জনপ্রিয় এই গ্রীষ্মকালীন ফলকে কেন্দ্র করে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখন অনেকটাই প্রশ্নের মুখে। প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, মৃত্যুর পেছনে তরমুজের চেয়ে আরও গুরুতর কোনো বিষাক্ত উপাদান বা জটিলতা জড়িত থাকতে পারে।

গত সপ্তাহে মারা যাওয়া পরিবারের চার সদস্য হলেন—৪৫ বছর বয়সি স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ ডোকাদিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসরিন এবং দুই কিশোরী কন্যা জয়নাব ও আয়েশা। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে রাতের খাবার শেষে গভীর রাতে তরমুজ খান। এরপর ভোরের দিকে তাঁরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চারজনের মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হয়েছিল যে তরমুজ থেকে এই বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু ফরেনসিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রের অংশে অস্বাভাবিক সবুজাভ পরিবর্তন দেখা গেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে সম্ভাব্য বিষক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করছে।

আরও পড়ুন  রাজারবাগ পুলিশ লাইনস পুকুরে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ ডোকাদিয়ার শরীরে শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ‘মরফিন’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি কীভাবে তাঁর শরীরে প্রবেশ করল—চিকিৎসাজনিত কারণ, দুর্ঘটনাবশত গ্রহণ, নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক প্রেক্ষাপট, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজ্যের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তরমুজের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্কের কোনো প্রমাণ মেলেনি। সেই রাতের খাবারে উপস্থিত অন্যান্য আত্মীয়রা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। পুলিশ ‘আকস্মিক মৃত্যু’ (আনন্যাচারাল ডেথ) মামলা রুজু করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য মৃতদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুর রহস্য পুরোপুরি সমাধান করা যাচ্ছে না।