দুবাইয়ে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে প্রাণ হারালেন এক বাংলাদেশি
- আপডেট সময় ০১:১০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 156
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে ড্রোন হামলায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ডব্লিউএএম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের জেরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, ফুজাইরাহর আল রিফা এলাকায় একটি ড্রোন অনুপ্রবেশ করলে সেটিকে আকাশেই ভূপাতিত করা হয়। ভূপাতিত ড্রোনের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ নিচে থাকা একটি খামারের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত, সেই খামারে কর্মরত এক বাংলাদেশি কর্মী ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তবে নিহতের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চলমান এই যুদ্ধাবস্থায় এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধকবলিত ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে স্বদেশে প্রত্যাবাসন করেছে সরকার।
এজাহারে বা তথ্যে উল্লেখ আছে যে, গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশারফ হোসেন নামে এক প্রবাসী নিহত হন। তার মরদেহ গত ২০ মার্চ দেশে এসে পৌঁছায়। এর আগে ১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতে মৌলভীবাজারের আহমদ আলী ওরফে ছালেহ আহমেদ নামে আরও এক বাংলাদেশি নিহতের খবর নিশ্চিত করেছিল তার পরিবার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সেখানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর।
যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার সজাগ দৃষ্টি রাখছে বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

























