ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

যুদ্ধ বিরতিতে কঠোর শর্ত ইরানের, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ছাড়া কোনো আপস নয়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / 127

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলমান যুদ্ধ পরিসমাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের সম্মান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমাধান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরানে আয়োজিত এক বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ইরানের প্রধান শক্তি। গত এক মাস ধরে ইসলামি ব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে ইরানি জনগণের নজিরবিহীন ঐক্য ও বিশাল সমাবেশকে তিনি জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, জনগণের এই সচেতন উপস্থিতি বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান ও ইরান

প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে জরুরি সেবা সচল রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ দপ্তরের পক্ষ থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। আক্রমণকারীদের শক্তিশালী জবাব দেওয়ার এই ধারাকে তিনি জাতির গর্বিত ইতিহাসের এক ‘সোনালী অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর ওপর চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত প্রতিরোধের এই ধারা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আগ্রাসন মোকাবিলায় সেবা খাতগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম জাতীয় সক্ষমতার প্রধান স্তম্ভ। জনসেবা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সব খাতের কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বিরতি বা সমাপ্তি নিয়ে পশ্চিমা চাপের বিপরীতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে ইরান কেবল তখনই আলোচনার টেবিলে বসবে, যখন দেশটির জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে। সম্মানহানি ঘটে এমন কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান গ্রহণ করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধ বিরতিতে কঠোর শর্ত ইরানের, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ছাড়া কোনো আপস নয়

আপডেট সময় ০৫:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলমান যুদ্ধ পরিসমাপ্তির ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের সম্মান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমাধান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরানে আয়োজিত এক বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ইরানের প্রধান শক্তি। গত এক মাস ধরে ইসলামি ব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে ইরানি জনগণের নজিরবিহীন ঐক্য ও বিশাল সমাবেশকে তিনি জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, জনগণের এই সচেতন উপস্থিতি বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শেষের শর্ত দিলেন

প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে জরুরি সেবা সচল রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজ নিজ দপ্তরের পক্ষ থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। আক্রমণকারীদের শক্তিশালী জবাব দেওয়ার এই ধারাকে তিনি জাতির গর্বিত ইতিহাসের এক ‘সোনালী অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুর ওপর চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত প্রতিরোধের এই ধারা অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আগ্রাসন মোকাবিলায় সেবা খাতগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম জাতীয় সক্ষমতার প্রধান স্তম্ভ। জনসেবা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সব খাতের কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বিরতি বা সমাপ্তি নিয়ে পশ্চিমা চাপের বিপরীতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে ইরান কেবল তখনই আলোচনার টেবিলে বসবে, যখন দেশটির জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে। সম্মানহানি ঘটে এমন কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান গ্রহণ করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।