ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে ১৬তম দিনে: দুবাই ও কুয়েতে ভয়াবহ হামলা, উত্তাল উপসাগরীয় অঞ্চল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / 152

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদ আর আগুনের দখলে, যার রেশ টানা ১৬তম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক অগ্নিগর্ভ জনপদে পরিণত হয়েছে।

রোববার দুপুরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের মেরিনা ও আল সুফুহ এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা মূলত ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করার ফল। একই সময়ে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ড্রোন আঘাত হেনেছে এবং আরব আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বর্তমানে সেখানে জ্বালানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, ইরান ইতোমধ্যে আরব আমিরাতের দিকে প্রায় ১৮০০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু ও ১৪১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান পরিষ্কারভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব বন্দর ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তারা ইরানের প্রধান তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের এই বিস্তৃতি এখন সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার এবং কাতারের রাস লাফান গ্যাস কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন  নাইজেরিয়ার ইমো রাজ্যে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৩০ যাত্রী

আঞ্চলিক এই অস্থিরতার প্রভাবে বাহরাইন ও সৌদি আরবে নির্ধারিত ফর্মুলা-ওয়ান রেস বাতিল করা হয়েছে এবং জর্ডানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো প্রতিনিয়ত আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বাহরাইনের মানামা থেকে শুরু করে ইসরায়েলের তেল আবিব পর্যন্ত এখন কেবলই যুদ্ধের দামামা আর বিস্ফোরণের শব্দ। দুবাইয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৎপর থাকলেও ফুজাইরাহ থেকে ওঠা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং কুয়েত বিমানবন্দরের ড্রোন হামলা প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি মুহূর্তেই আরও বড় কোনো মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে ১৬তম দিনে: দুবাই ও কুয়েতে ভয়াবহ হামলা, উত্তাল উপসাগরীয় অঞ্চল

আপডেট সময় ০৩:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদ আর আগুনের দখলে, যার রেশ টানা ১৬তম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক অগ্নিগর্ভ জনপদে পরিণত হয়েছে।

রোববার দুপুরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের মেরিনা ও আল সুফুহ এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা মূলত ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করার ফল। একই সময়ে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ড্রোন আঘাত হেনেছে এবং আরব আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বর্তমানে সেখানে জ্বালানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, ইরান ইতোমধ্যে আরব আমিরাতের দিকে প্রায় ১৮০০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু ও ১৪১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান পরিষ্কারভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব বন্দর ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তারা ইরানের প্রধান তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের এই বিস্তৃতি এখন সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার এবং কাতারের রাস লাফান গ্যাস কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন  সুদানে আরএসএফ বাহিনীর ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩০০ বেসামরিক মানুষ

আঞ্চলিক এই অস্থিরতার প্রভাবে বাহরাইন ও সৌদি আরবে নির্ধারিত ফর্মুলা-ওয়ান রেস বাতিল করা হয়েছে এবং জর্ডানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো প্রতিনিয়ত আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বাহরাইনের মানামা থেকে শুরু করে ইসরায়েলের তেল আবিব পর্যন্ত এখন কেবলই যুদ্ধের দামামা আর বিস্ফোরণের শব্দ। দুবাইয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৎপর থাকলেও ফুজাইরাহ থেকে ওঠা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং কুয়েত বিমানবন্দরের ড্রোন হামলা প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি মুহূর্তেই আরও বড় কোনো মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিতে পারে।