ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

মধ্যপ্রাচ্যে ১৬তম দিনে: দুবাই ও কুয়েতে ভয়াবহ হামলা, উত্তাল উপসাগরীয় অঞ্চল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / 213

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদ আর আগুনের দখলে, যার রেশ টানা ১৬তম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক অগ্নিগর্ভ জনপদে পরিণত হয়েছে।

রোববার দুপুরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের মেরিনা ও আল সুফুহ এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা মূলত ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করার ফল। একই সময়ে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ড্রোন আঘাত হেনেছে এবং আরব আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বর্তমানে সেখানে জ্বালানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, ইরান ইতোমধ্যে আরব আমিরাতের দিকে প্রায় ১৮০০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু ও ১৪১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান পরিষ্কারভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব বন্দর ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তারা ইরানের প্রধান তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের এই বিস্তৃতি এখন সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার এবং কাতারের রাস লাফান গ্যাস কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন  পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই ও হত্যায় জড়িত দুইজন গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক এই অস্থিরতার প্রভাবে বাহরাইন ও সৌদি আরবে নির্ধারিত ফর্মুলা-ওয়ান রেস বাতিল করা হয়েছে এবং জর্ডানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো প্রতিনিয়ত আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বাহরাইনের মানামা থেকে শুরু করে ইসরায়েলের তেল আবিব পর্যন্ত এখন কেবলই যুদ্ধের দামামা আর বিস্ফোরণের শব্দ। দুবাইয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৎপর থাকলেও ফুজাইরাহ থেকে ওঠা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং কুয়েত বিমানবন্দরের ড্রোন হামলা প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি মুহূর্তেই আরও বড় কোনো মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে ১৬তম দিনে: দুবাই ও কুয়েতে ভয়াবহ হামলা, উত্তাল উপসাগরীয় অঞ্চল

আপডেট সময় ০৩:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদ আর আগুনের দখলে, যার রেশ টানা ১৬তম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলায় গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক অগ্নিগর্ভ জনপদে পরিণত হয়েছে।

রোববার দুপুরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের মেরিনা ও আল সুফুহ এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা মূলত ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করার ফল। একই সময়ে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ড্রোন আঘাত হেনেছে এবং আরব আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বর্তমানে সেখানে জ্বালানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, ইরান ইতোমধ্যে আরব আমিরাতের দিকে প্রায় ১৮০০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু ও ১৪১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান পরিষ্কারভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব বন্দর ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তারা ইরানের প্রধান তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের এই বিস্তৃতি এখন সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার এবং কাতারের রাস লাফান গ্যাস কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে ইরানের হামলা, নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ

আঞ্চলিক এই অস্থিরতার প্রভাবে বাহরাইন ও সৌদি আরবে নির্ধারিত ফর্মুলা-ওয়ান রেস বাতিল করা হয়েছে এবং জর্ডানসহ প্রতিবেশী দেশগুলো প্রতিনিয়ত আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে। বাহরাইনের মানামা থেকে শুরু করে ইসরায়েলের তেল আবিব পর্যন্ত এখন কেবলই যুদ্ধের দামামা আর বিস্ফোরণের শব্দ। দুবাইয়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৎপর থাকলেও ফুজাইরাহ থেকে ওঠা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং কুয়েত বিমানবন্দরের ড্রোন হামলা প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি মুহূর্তেই আরও বড় কোনো মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিতে পারে।