ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধ ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে আরো শক্তিশালী করে ফেলবে— ইরানি গণতন্ত্রকামীদের মত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 141

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত শতাধিক ইরানি নাগরিক।

তাঁদের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরানের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার বদলে বরং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে ছয় বছর বন্দি থাকা সাবেক রাজনৈতিক বন্দি নাজানিন জাঘারি-র‍্যাটক্লিফসহ আরও অনেক বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ উল্টো ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে ‘পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই’ করার পুরোনো প্রচারণাকে নতুন করে জীবন দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যু তাঁকে জনগণের কাছে অপরাধের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করার পরিবর্তে ‘শহীদের’ মর্যাদা দিয়ে ফেলেছে। ইরানি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দেখা, রণক্ষেত্রে মৃত্যু নয়। এ ধরনের সংঘাত সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আড়াল করে কেবল কর্তৃত্ববাদী শক্তিকেই শক্তিশালী করে বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন।

আরও পড়ুন  জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা জোরদার, অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ২ সদস্য নিহত

সামরিক সহায়তার বিকল্প হিসেবে তাঁরা যুক্তরাজ্য সরকারকে ইরানের ভেতরের গণতন্ত্রপন্থী মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশটিতে নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। স্বাক্ষরকারীরা ব্রিটিশ সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধনীতির ফাঁদে পা না দেয়। বরং রাজনৈতিক বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পথ।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধ ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে আরো শক্তিশালী করে ফেলবে— ইরানি গণতন্ত্রকামীদের মত

আপডেট সময় ০৩:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত শতাধিক ইরানি নাগরিক।

তাঁদের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ইরানের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার বদলে বরং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে ছয় বছর বন্দি থাকা সাবেক রাজনৈতিক বন্দি নাজানিন জাঘারি-র‍্যাটক্লিফসহ আরও অনেক বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ উল্টো ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে ‘পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই’ করার পুরোনো প্রচারণাকে নতুন করে জীবন দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যু তাঁকে জনগণের কাছে অপরাধের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করার পরিবর্তে ‘শহীদের’ মর্যাদা দিয়ে ফেলেছে। ইরানি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দেখা, রণক্ষেত্রে মৃত্যু নয়। এ ধরনের সংঘাত সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আড়াল করে কেবল কর্তৃত্ববাদী শক্তিকেই শক্তিশালী করে বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন।

আরও পড়ুন  গাজা সিটির দিকে ইসরায়েলের পূর্ণ দখল অভিযান, ৮ লাখ মানুষের জীবন হুমকিতে।

সামরিক সহায়তার বিকল্প হিসেবে তাঁরা যুক্তরাজ্য সরকারকে ইরানের ভেতরের গণতন্ত্রপন্থী মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশটিতে নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। স্বাক্ষরকারীরা ব্রিটিশ সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য যেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধনীতির ফাঁদে পা না দেয়। বরং রাজনৈতিক বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর পথ।