ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু বক্তৃতা নয়, কাজ দিয়ে মানুষের মন জয়ের আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

ছবি সংগ্হীত

 

শুধু বক্তব্য নয়, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও মন জয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে হাজীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসে আয়োজিত ‘সরকারি মাধ্যমের হজ গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী।

আরও পড়ুন  ঈদের ছুটি শেষ, ঢাকায় নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

মন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু হাজীদের নিবন্ধন কিংবা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজীদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই হজ ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য নিহিত।

বিগত হজের ব্যবস্থাপনার বড় অংশ আগের সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, নিবন্ধন ও সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন রুটিন কাজ; তবে হাজীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।

ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ ব্যবস্থাপনার মূল কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। রিয়াদে সৌদি হজ মন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন সৌদি হজমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হাজীদের জন্য এক লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী। পাশাপাশি বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং এবং নারী হাজীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো হাজীর লাগেজ হারায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশি হাজীদের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমান, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান তিনি। তাঁদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হাজীদের সেবা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নিজেকে জনগণের ‘খাদেম’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

হজে যাওয়ার ফ্লাইটের শেষ দিনে হজ ক্যাম্প প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পরের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই সময় এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা তাঁকে ফোন করে জানান, ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন নারী ও একজন পুরুষ হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে না পেরে কান্নাকাটি করছেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজ থেকে তাঁদের টিকিটের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনএসআই কর্মকর্তাকে দ্রুত ওই দুই যাত্রীকে নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের দুজনকেই নিরাপদে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয়।

হজ গাইডদের দায়িত্বশীলতা ও সেবার মান আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গাইডদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য তাঁদের পুরস্কৃত করার সুযোগ বাড়ানো হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার হজ গাইডদের কঠোর পরিশ্রম ও হাজীদের সেবায় তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, হজ গাইডদের সম্মাননা তাঁদের সেবার তুলনায় খুবই সামান্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। আগামী হজ আরও সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এনডিসি লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং গুরুতর অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের হজে যাওয়ার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। গত বছরের অব্যবহৃত অর্থ হাজীদের ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য এবং হজ গাইডদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারোয়ার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ওয়াক্‌ফ প্রশাসক (সচিব) সাফিজ উদ্দিন আহমেদ, হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনসহ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে সরকারি মাধ্যমের হাজীদের সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৮ জন হজ গাইডকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

শুধু বক্তৃতা নয়, কাজ দিয়ে মানুষের মন জয়ের আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১০:৩৬:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

শুধু বক্তব্য নয়, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও মন জয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে হাজীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসে আয়োজিত ‘সরকারি মাধ্যমের হজ গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী।

আরও পড়ুন  ঈদুল ফিতর শেষে স্বস্তিতে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

মন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধু হাজীদের নিবন্ধন কিংবা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজীদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যেই হজ ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য নিহিত।

বিগত হজের ব্যবস্থাপনার বড় অংশ আগের সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, নিবন্ধন ও সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন রুটিন কাজ; তবে হাজীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।

ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ ব্যবস্থাপনার মূল কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। রিয়াদে সৌদি হজ মন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন সৌদি হজমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হাজীদের জন্য এক লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী। পাশাপাশি বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং এবং নারী হাজীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো হাজীর লাগেজ হারায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশি হাজীদের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমান, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান তিনি। তাঁদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হাজীদের সেবা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নিজেকে জনগণের ‘খাদেম’ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

হজে যাওয়ার ফ্লাইটের শেষ দিনে হজ ক্যাম্প প্রায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পরের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই সময় এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা তাঁকে ফোন করে জানান, ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন নারী ও একজন পুরুষ হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে না পেরে কান্নাকাটি করছেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজ থেকে তাঁদের টিকিটের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনএসআই কর্মকর্তাকে দ্রুত ওই দুই যাত্রীকে নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের দুজনকেই নিরাপদে হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হয়।

হজ গাইডদের দায়িত্বশীলতা ও সেবার মান আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গাইডদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য তাঁদের পুরস্কৃত করার সুযোগ বাড়ানো হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার হজ গাইডদের কঠোর পরিশ্রম ও হাজীদের সেবায় তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, হজ গাইডদের সম্মাননা তাঁদের সেবার তুলনায় খুবই সামান্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। আগামী হজ আরও সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এনডিসি লাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং গুরুতর অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের হজে যাওয়ার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। গত বছরের অব্যবহৃত অর্থ হাজীদের ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য এবং হজ গাইডদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি সৈয়দ গোলাম সারোয়ার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ওয়াক্‌ফ প্রশাসক (সচিব) সাফিজ উদ্দিন আহমেদ, হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনসহ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে সরকারি মাধ্যমের হাজীদের সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৮ জন হজ গাইডকে পুরস্কার দেওয়া হয়।