ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

প্রাথমিক ফলেই এগিয়ে অনুতিন, থাইল্যান্ডের নির্বাচনে জয়ের ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 3119

ছবি: সংগৃহীত

 

থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে থাকায় বিজয়ের দাবি করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চারনাভিরাকুল। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মোট ভোটের ৫৬ শতাংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৫০০ আসনের পার্লামেন্টে অনুতিনের নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। দলটি প্রায় ১৯৭টি আসনে জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুতিনের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।

আরও পড়ুন  ন্যূনতম সংস্কার করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন- বিএনপির বর্ধিত সভায় খালেদা জিয়া

নির্বাচনপূর্ব জরিপগুলোতে সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টিকে এগিয়ে রাখা হলেও ভোটের ফলাফলে সেই পূর্বাভাস বাস্তবে মিলছে না। বরং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পিপলস পার্টি, যারা আনুমানিক ১১০টি আসন পেতে পারে।

প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় অনুতিন চারনাভিরাকুল বলেন, এই সাফল্য পুরো থাই জনগণের। ভোটে সমর্থন দিয়েছেন কিংবা দেননি—সবার জন্যই তিনি কাজ করবেন বলে জানান।

অন্যদিকে পিপলস পার্টির নেতা নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত পরাজয় মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভুমজাইথাই পার্টি সরকার গঠন করলে বিরোধী দলে থেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে তার দল।

গত দুই বছরে একাধিক জোট সরকারের পতন এবং তিনজন প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তনের পর থাইল্যান্ডে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মূলত ভুমজাইথাই পার্টি, পিপলস পার্টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ফেউ থাই পার্টির মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে।

তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুতিন চারনাভিরাকুলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকা এখন প্রায় নিশ্চিত।

এই নির্বাচনের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের ভোটাররা নতুন সংবিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত গণভোটেও অংশ নিয়েছেন। হলুদ রঙের আলাদা ব্যালট পেপারে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’, ‘না’ অথবা ‘মতামত নেই’—এই তিনটি বিকল্পের একটিতে ভোট দিয়েছেন।

২০১৭ সালের সংবিধান সংস্কার করা হবে কি না, সেই প্রশ্নেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৪ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারের সময় প্রণীত এই সংবিধানে অনির্বাচিত সিনেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক থাই ভোটার বলেন, তিনি পরিবর্তন চান এবং দেশের রাজনীতিতে একই ধারা চলতে থাকুক, তা আর চান না।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রাথমিক ফলেই এগিয়ে অনুতিন, থাইল্যান্ডের নির্বাচনে জয়ের ঘোষণা

আপডেট সময় ০৯:৫৩:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে থাকায় বিজয়ের দাবি করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চারনাভিরাকুল। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মোট ভোটের ৫৬ শতাংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ৫০০ আসনের পার্লামেন্টে অনুতিনের নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। দলটি প্রায় ১৯৭টি আসনে জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুতিনের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।

আরও পড়ুন  নেপালে জেন-জি প্রজন্মের জোয়ার; নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানে রায় দিচ্ছে ভোটাররা

নির্বাচনপূর্ব জরিপগুলোতে সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টিকে এগিয়ে রাখা হলেও ভোটের ফলাফলে সেই পূর্বাভাস বাস্তবে মিলছে না। বরং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পিপলস পার্টি, যারা আনুমানিক ১১০টি আসন পেতে পারে।

প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় অনুতিন চারনাভিরাকুল বলেন, এই সাফল্য পুরো থাই জনগণের। ভোটে সমর্থন দিয়েছেন কিংবা দেননি—সবার জন্যই তিনি কাজ করবেন বলে জানান।

অন্যদিকে পিপলস পার্টির নেতা নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত পরাজয় মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভুমজাইথাই পার্টি সরকার গঠন করলে বিরোধী দলে থেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে তার দল।

গত দুই বছরে একাধিক জোট সরকারের পতন এবং তিনজন প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তনের পর থাইল্যান্ডে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মূলত ভুমজাইথাই পার্টি, পিপলস পার্টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ফেউ থাই পার্টির মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে।

তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুতিন চারনাভিরাকুলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকা এখন প্রায় নিশ্চিত।

এই নির্বাচনের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের ভোটাররা নতুন সংবিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত গণভোটেও অংশ নিয়েছেন। হলুদ রঙের আলাদা ব্যালট পেপারে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’, ‘না’ অথবা ‘মতামত নেই’—এই তিনটি বিকল্পের একটিতে ভোট দিয়েছেন।

২০১৭ সালের সংবিধান সংস্কার করা হবে কি না, সেই প্রশ্নেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৪ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারের সময় প্রণীত এই সংবিধানে অনির্বাচিত সিনেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক থাই ভোটার বলেন, তিনি পরিবর্তন চান এবং দেশের রাজনীতিতে একই ধারা চলতে থাকুক, তা আর চান না।