ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1663

ছবি: সংগৃহীত

 

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সমাধান এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ ক্ষমা আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার সকল ব্যক্তির জন্য এই আইনের আওতায় মুক্তি প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়া নেওয়ার প্রলোভনে গুদামে বন্দি: টেকনাফে নারী-শিশুসহ ১৫ জন উদ্ধার

এই মাসের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী আটক হওয়ার পর রদ্রিগেজের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

রদ্রিগেজ বিচারক, মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বলেন, রাজনৈতিক সংঘাত ও চরমপন্থার ফলে সমাজে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তার পূরণই এই আইনটির মূল লক্ষ্য। তিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিকে জরুরি ভিত্তিতে এই বিল পাসের আহ্বান জানান, যাতে নাগরিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।

এছাড়া, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পাশাপাশি রদ্রিগেজ ‘এল হেলিকয়েড’ কারাগার বন্ধেরও ঘোষণা দেন। এই কারাগারটি দেশের গোপন গোয়েন্দা সংস্থার বন্দিশালা হিসেবেও পরিচিত, যেখান থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, এই কারাগারকে ধ্বংস না করে সাধারণ মানুষের জন্য একটি ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত করা হবে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন কারাগারে ৭১১ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছে। মাদুরো নিখোঁজ হওয়ার পর রদ্রিগেজ সরকার ইতিমধ্যেই ৩০২ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। ফোরো পেনালের প্রেসিডেন্ট আলফ্রেডো রোমেরো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান, তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যাতে এই সাধারণ ক্ষমা বৈষম্যমূলক না হয় এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।

সরকারের এই ঘোষণার পর কিছু মানবাধিকার কর্মীকে মুক্তি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সুত্র: আলজাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা

আপডেট সময় ০১:১৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

 

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সমাধান এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ ক্ষমা আইনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার সকল ব্যক্তির জন্য এই আইনের আওতায় মুক্তি প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন  ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনে বিপুল জয় মাদুরো জোটের, বিরোধীদের বর্জন

এই মাসের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী আটক হওয়ার পর রদ্রিগেজের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

রদ্রিগেজ বিচারক, মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বলেন, রাজনৈতিক সংঘাত ও চরমপন্থার ফলে সমাজে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তার পূরণই এই আইনটির মূল লক্ষ্য। তিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিকে জরুরি ভিত্তিতে এই বিল পাসের আহ্বান জানান, যাতে নাগরিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।

এছাড়া, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পাশাপাশি রদ্রিগেজ ‘এল হেলিকয়েড’ কারাগার বন্ধেরও ঘোষণা দেন। এই কারাগারটি দেশের গোপন গোয়েন্দা সংস্থার বন্দিশালা হিসেবেও পরিচিত, যেখান থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, এই কারাগারকে ধ্বংস না করে সাধারণ মানুষের জন্য একটি ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত করা হবে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন কারাগারে ৭১১ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছে। মাদুরো নিখোঁজ হওয়ার পর রদ্রিগেজ সরকার ইতিমধ্যেই ৩০২ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। ফোরো পেনালের প্রেসিডেন্ট আলফ্রেডো রোমেরো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান, তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যাতে এই সাধারণ ক্ষমা বৈষম্যমূলক না হয় এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়।

সরকারের এই ঘোষণার পর কিছু মানবাধিকার কর্মীকে মুক্তি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সুত্র: আলজাজিরা