ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮৫ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার দুই শিশু
- আপডেট সময় ০৯:১৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 18
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের প্রায় ৮৫ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১১ বছর বয়সী দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের এ সাফল্য নতুন করে আশার সঞ্চার করলেও নিহত ও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে প্রথমে মোইসেস নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সতর্কতার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত লোকজন করতালির মাধ্যমে উদ্ধারকারী দলের প্রতি অভিনন্দন জানান। তীব্র সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষার জন্য শিশুটির চোখও ঢেকে দেওয়া হয়।
কয়েক ঘণ্টা পর আরও এক ১১ বছর বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধারের তথ্য জানান ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা স্ট্রেচারে করে শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।
গত বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১২৬ বছরের মধ্যে এটিই ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা কিছু মানুষ এখনও জীবিত থাকতে পারেন, যদি তারা পানি ও খাবারের নাগাল পেয়ে থাকেন।
মূল দুটি ভূমিকম্পের পর কয়েকশ পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যের কারাবালেদা শহর। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে মার্কিন হেলিকপ্টারে করে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, কয়েকশ মানুষ এখনও নিখোঁজ অথবা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। তবে দেশটির বিরোধীদলীয় একটি ওয়েবসাইটে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
























