ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সংসদ ভেঙে দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1486

ছবি: সংগ্রহীত

 

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দেশটির পার্লামেন্টের শক্তিশালী নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়েছেন এবং আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণাপত্র পাঠ করার পর ৪৬৫ জন আইনপ্রণেতা ঐতিহ্যবাহী ‘বানজাই’ স্লোগান দিয়ে সংসদ ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন  শিক্ষার্থীদের অনুরোধে গাড়িবহর থামিয়ে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। গত অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এই বড় ধরনের রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশে অবস্থান করছে, যা কাজে লাগিয়ে তিনি শাসনব্যবস্থায় দলের ভিত আরও মজবুত করতে চাইছেন।

জাপানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে-র তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মূল আলোচ্য বিষয় হবে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং চীনের সাথে জাপানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি) জোট বর্তমানে নিম্নকক্ষে নামমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিদেহিরো ইয়ামামোটো মনে করেন, তাকাইচির উচ্চ ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলের জন্য সরাসরি ভোটে রূপান্তর হবে কি না তা এখনো অনিশ্চিত, কারণ সাধারণ ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে।

উল্লেখ্য যে, চীনের সাথে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতি এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গত নভেম্বরে সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে জাপানও সেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এই মন্তব্যের পর থেকেই বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে এবং চীন জাপানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে। এই জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এই আগাম নির্বাচনকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশা করছেন যে, এই আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছ থেকে নতুন করে জোরালো ম্যান্ডেট পাবেন, যা তাকে অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে আরও সাহসী করে তুলবে। তবে বিরোধী দলগুলো অর্থনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে।

৮ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার গতিপথ।

নিউজটি শেয়ার করুন

সংসদ ভেঙে দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

আপডেট সময় ০৪:৫১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

 

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দেশটির পার্লামেন্টের শক্তিশালী নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়েছেন এবং আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণাপত্র পাঠ করার পর ৪৬৫ জন আইনপ্রণেতা ঐতিহ্যবাহী ‘বানজাই’ স্লোগান দিয়ে সংসদ ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন  দুপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। গত অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এই বড় ধরনের রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশে অবস্থান করছে, যা কাজে লাগিয়ে তিনি শাসনব্যবস্থায় দলের ভিত আরও মজবুত করতে চাইছেন।

জাপানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে-র তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মূল আলোচ্য বিষয় হবে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং চীনের সাথে জাপানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি) জোট বর্তমানে নিম্নকক্ষে নামমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিদেহিরো ইয়ামামোটো মনে করেন, তাকাইচির উচ্চ ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলের জন্য সরাসরি ভোটে রূপান্তর হবে কি না তা এখনো অনিশ্চিত, কারণ সাধারণ ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে।

উল্লেখ্য যে, চীনের সাথে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতি এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গত নভেম্বরে সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে জাপানও সেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এই মন্তব্যের পর থেকেই বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে এবং চীন জাপানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে। এই জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এই আগাম নির্বাচনকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশা করছেন যে, এই আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছ থেকে নতুন করে জোরালো ম্যান্ডেট পাবেন, যা তাকে অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে আরও সাহসী করে তুলবে। তবে বিরোধী দলগুলো অর্থনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে।

৮ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার গতিপথ।