মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে সোনারগাঁওয়ে বাড়িতে হামলা, আহত ৪
- আপডেট সময় ০৩:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ হোসেন নামে এক যুবদল কর্মীসহ একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটেরও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
আহত মোহাম্মদ হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় তার স্ত্রী তুলি আক্তার, মা নূর বানু ও বোন ইয়াসমিনও আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বস্তল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের বর্তমান সভাপতি পদে রয়েছেন মোহাম্মদ হোসেনের শ্বশুর ও বিএনপি নেতা মো. আমানউল্লাহ মিয়া। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে একই এলাকার বিএনপি কর্মী মাসুদ মিয়া, তার ভাই রোকন উদ্দিন ও মামুন মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
এ নিয়ে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রোকন উদ্দিনের সঙ্গে মোহাম্মদ হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদ হোসেন তাকে থাপ্পড় দেন বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালান। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক ও লোহার রড ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে তিনটি কক্ষে থাকা ফ্রিজ, টেলিভিশন, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।
পরিবারের সদস্য ইয়াসমিনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তার ভাই মোহাম্মদ হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও আনুমানিক ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি। তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মিয়া বলেন, হামলা ও গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে এবং গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জসিমউদ্দীন বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার গুলিবর্ষণের কথা জানিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।



















