০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘২ হাজার টাকার কার্ড পেতে ১ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে না তো?’—নাহিদ ইসলাম ইতোকোতর্মিতো – বরফের রাজ্যে মানুষের বসতি উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পেল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ নিরাপত্তার কারণেই ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ, ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরকারও সিদ্ধান্তে অটল কেউ চিরদিন বাঁচে না’—হাসিনা যুগ নিয়ে জয়ের বক্তব্য আপনারা ভালা আছেন নি?’ সিলেটে তারেক রহমান সিলেট থেকে বিএনপির সিলেট থেকে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু, আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসমুদ্র প্রচারণা শুরু, আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসমুদ্র ফাইনালের টিকিট রাজশাহীর, হতাশ সিলেট গাজায় একদিনে ইসরায়েলি হামলায় ৩ সাংবাদিকসহ নিহত ১১ ডা. জুবাইদার মতো আমিও আপনাদের সন্তান: তারেক রহমান

তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা ‘লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া’ নামক ঐতিহাসিক গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছে।

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 87

ছবি সংগৃহীত

 

তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা MİT তাদের সরকারি ওয়েবসাইটের “Special Collection” এর একটি ঐতিহাসিক গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছে। নথিটির তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯, যা তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাত্র ছয় বছর পরের দলিল। প্রকাশিত নথিটি কোনো নতুন ব্যাখ্যা নয়; বরং একটি মূল আর্কাইভ দলিল।

নথিটি প্রস্তুত করেছিল তৎকালীন ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিস ডিরেক্টরেট, এবং তা পাঠানো হয়েছিল সেনাপ্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

[bsa_pro_ad_space id=2]

প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল কায়রোর ম্যাসনিক সার্কেল থেকে পাওয়া নিশ্চিত ও যাচাইকৃত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে।
_

নথি অনুযায়ী, টি. ই. লরেন্স (Lawrence) ১৯২৯ সালে একাধিক ছদ্মনাম ও ছদ্মবেশে কাজ করছিলেন। তিনি কখনো “শেখ আবদুল্লাহ”, আবার কখনো “ইয়াকোস ইস্কিনাজি” নামে পরিচয় দিতেন। ঐ বছরের মধ্যেই তিনি মিশর, সিরিয়া, ইরাক, জেরুজালেম ও সুদান জুড়ে ঘুরে বেড়ান।

নথি লেখার প্রায় দুই মাস আগে লরেন্স মিশরে পৌঁছান, পরে সিরিয়া ও ইরাক ঘুরে ১৯২৯ সালের আগস্টে হঠাৎ জেরুজালেমে উপস্থিত হন। নথি প্রস্তুতের সময় তিনি সুদানের খার্তুমে অবস্থান করছিলো বলে ধারণা করা হয়।

একটি অংশে উল্লেখ করা হয়, লরেন্স কখনো মুসলিম ধর্মীয় আলেমের পোশাক, আবার কখনো আমেরিকান ইহুদি রাব্বির পোশাক পরতেন। তিনি মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে আলাদাভাবে গিয়ে এমন বক্তব্য দিতেন, যেগুলো নথিতে “বিষাক্ত প্ররোচনা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা ও উসকে দেওয়া।

নথিটি লরেন্সের কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

এতে বলা হয়, ব্রিটিশ এই গোয়েন্দা তৎপরতা সরাসরি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের যুক্তিতর্ক ও মিশরের স্বাধীনতা প্রশ্নে নীতিনির্ধারণের সাথে যুক্ত ছিল।

ফিলিস্তিন ও সুদানে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হতো এই প্রমাণ দেখাতে যে, মিশর এখনো স্বাধীনতার যোগ্য না, যা তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ড সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করত।

নথিতে সুদানকে অস্থিরতা তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এর প্রশাসনিক কাঠামো এবং মিশরের সাথে স্থায়ী সংযোগ। সুদানকে ব্যবহার করা হতো এজেন্ট প্রশিক্ষণ, নেতিবাচক প্রচারণা এবং সামগ্রিকভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির ঘাঁটি হিসেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

[bsa_pro_ad_space id=4]

তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা ‘লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া’ নামক ঐতিহাসিক গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছে।

আপডেট সময় ০৪:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা MİT তাদের সরকারি ওয়েবসাইটের “Special Collection” এর একটি ঐতিহাসিক গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছে। নথিটির তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯, যা তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাত্র ছয় বছর পরের দলিল। প্রকাশিত নথিটি কোনো নতুন ব্যাখ্যা নয়; বরং একটি মূল আর্কাইভ দলিল।

নথিটি প্রস্তুত করেছিল তৎকালীন ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিস ডিরেক্টরেট, এবং তা পাঠানো হয়েছিল সেনাপ্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

[bsa_pro_ad_space id=2]

প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল কায়রোর ম্যাসনিক সার্কেল থেকে পাওয়া নিশ্চিত ও যাচাইকৃত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে।
_

নথি অনুযায়ী, টি. ই. লরেন্স (Lawrence) ১৯২৯ সালে একাধিক ছদ্মনাম ও ছদ্মবেশে কাজ করছিলেন। তিনি কখনো “শেখ আবদুল্লাহ”, আবার কখনো “ইয়াকোস ইস্কিনাজি” নামে পরিচয় দিতেন। ঐ বছরের মধ্যেই তিনি মিশর, সিরিয়া, ইরাক, জেরুজালেম ও সুদান জুড়ে ঘুরে বেড়ান।

নথি লেখার প্রায় দুই মাস আগে লরেন্স মিশরে পৌঁছান, পরে সিরিয়া ও ইরাক ঘুরে ১৯২৯ সালের আগস্টে হঠাৎ জেরুজালেমে উপস্থিত হন। নথি প্রস্তুতের সময় তিনি সুদানের খার্তুমে অবস্থান করছিলো বলে ধারণা করা হয়।

একটি অংশে উল্লেখ করা হয়, লরেন্স কখনো মুসলিম ধর্মীয় আলেমের পোশাক, আবার কখনো আমেরিকান ইহুদি রাব্বির পোশাক পরতেন। তিনি মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে আলাদাভাবে গিয়ে এমন বক্তব্য দিতেন, যেগুলো নথিতে “বিষাক্ত প্ররোচনা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা ও উসকে দেওয়া।

নথিটি লরেন্সের কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

এতে বলা হয়, ব্রিটিশ এই গোয়েন্দা তৎপরতা সরাসরি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের যুক্তিতর্ক ও মিশরের স্বাধীনতা প্রশ্নে নীতিনির্ধারণের সাথে যুক্ত ছিল।

ফিলিস্তিন ও সুদানে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হতো এই প্রমাণ দেখাতে যে, মিশর এখনো স্বাধীনতার যোগ্য না, যা তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ড সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করত।

নথিতে সুদানকে অস্থিরতা তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এর প্রশাসনিক কাঠামো এবং মিশরের সাথে স্থায়ী সংযোগ। সুদানকে ব্যবহার করা হতো এজেন্ট প্রশিক্ষণ, নেতিবাচক প্রচারণা এবং সামগ্রিকভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির ঘাঁটি হিসেবে।