ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

চতুর্থ দিনে উত্তাল বিক্ষোভ, লস অ্যাঞ্জেলেসে মোতায়েন ৭০০ মেরিন সেনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
  • / 358

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় বিক্ষোভ চলছে টানা চার দিন ধরে। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আরও চার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা অতিরিক্ত বাহিনী আসা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের তাণ্ডব, ভবিষ্যত পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

শনিবার থেকে শুরু হওয়া অভিবাসনবিরোধী অভিযানের পরই আন্দোলন জোরদার হয়। অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গণপ্রতিবাদ। সোমবার সন্ধ্যায় শত শত বিক্ষোভকারী লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রে জড়ো হলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। সেখানে বহু অভিবাসী আটক রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লেস লেথাল অস্ত্র ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

এলএপিডি জানায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বস্তু নিক্ষেপ করলে তারা গ্যাস ছুড়ে। ফেডারেল ভবনের সামনে জাতীয় রক্ষী বাহিনী মানব প্রাচীর তৈরি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই ঘটনায় কিছু যানবাহনে আগুন লাগানো হয়, যার মধ্যে একটি সেলফ-ড্রাইভিং ওয়েমো গাড়িও রয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য ও পাঁচটি পুলিশ ঘোড়া।

ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকার সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, এটি সংবিধান ও রাজ্য সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। অতীতে শুধু বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় বিপর্যয়ের সময় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা ব্যবহার একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। যদিও এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ১৮০৭ সালের ইনসারেকশন অ্যাক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োগ করেনি।

পেন্টাগনের বরাতে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০০০ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি আর কোনো উপায় দেখছিলাম না। সহিংসতা যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তাই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।”

এছাড়া তিনি তার সীমান্ত নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম হোম্যানের সেই প্রস্তাবকেও সমর্থন দেন, যেখানে বলা হয় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোমকে অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়ার দায়ে গ্রেপ্তার করা উচিত। ট্রাম্প বলেন, “আমি হলে সেটাই করতাম।”

বিক্ষোভকারীরা ‘ফ্রি দেম অল’ স্লোগানে ফেডারেল ভবনের সামনে জড়ো হন। মেক্সিকো ও হন্ডুরাস থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান মারজিতা সেরাতো বলেন, “এটা শুধু অভিবাসীদের নয় এটা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে লড়াই।”

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা হচ্ছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী।

এদিকে, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, ও সান ফ্রান্সিসকোসহ অন্তত ৯টি শহরে অভিবাসনবিরোধী এই নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদ্রোহ বা আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা দেখা দিলে প্রেসিডেন্ট জাতীয় রক্ষী বাহিনী বা সেনা মোতায়েন করতে পারেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত নজির হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চতুর্থ দিনে উত্তাল বিক্ষোভ, লস অ্যাঞ্জেলেসে মোতায়েন ৭০০ মেরিন সেনা

আপডেট সময় ১১:৫৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় বিক্ষোভ চলছে টানা চার দিন ধরে। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লস অ্যাঞ্জেলেসে ৭০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আরও চার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা অতিরিক্ত বাহিনী আসা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  সরকারি কর্মচারী অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে তৃতীয় দিনে বিক্ষোভ অব্যাহত

শনিবার থেকে শুরু হওয়া অভিবাসনবিরোধী অভিযানের পরই আন্দোলন জোরদার হয়। অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গণপ্রতিবাদ। সোমবার সন্ধ্যায় শত শত বিক্ষোভকারী লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রে জড়ো হলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। সেখানে বহু অভিবাসী আটক রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লেস লেথাল অস্ত্র ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

এলএপিডি জানায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বস্তু নিক্ষেপ করলে তারা গ্যাস ছুড়ে। ফেডারেল ভবনের সামনে জাতীয় রক্ষী বাহিনী মানব প্রাচীর তৈরি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই ঘটনায় কিছু যানবাহনে আগুন লাগানো হয়, যার মধ্যে একটি সেলফ-ড্রাইভিং ওয়েমো গাড়িও রয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য ও পাঁচটি পুলিশ ঘোড়া।

ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকার সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, এটি সংবিধান ও রাজ্য সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। অতীতে শুধু বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় বিপর্যয়ের সময় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা ব্যবহার একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। যদিও এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ১৮০৭ সালের ইনসারেকশন অ্যাক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োগ করেনি।

পেন্টাগনের বরাতে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০০০ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি আর কোনো উপায় দেখছিলাম না। সহিংসতা যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তাই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।”

এছাড়া তিনি তার সীমান্ত নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম হোম্যানের সেই প্রস্তাবকেও সমর্থন দেন, যেখানে বলা হয় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোমকে অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়ার দায়ে গ্রেপ্তার করা উচিত। ট্রাম্প বলেন, “আমি হলে সেটাই করতাম।”

বিক্ষোভকারীরা ‘ফ্রি দেম অল’ স্লোগানে ফেডারেল ভবনের সামনে জড়ো হন। মেক্সিকো ও হন্ডুরাস থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান মারজিতা সেরাতো বলেন, “এটা শুধু অভিবাসীদের নয় এটা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে লড়াই।”

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা হচ্ছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী।

এদিকে, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, ও সান ফ্রান্সিসকোসহ অন্তত ৯টি শহরে অভিবাসনবিরোধী এই নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদ্রোহ বা আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা দেখা দিলে প্রেসিডেন্ট জাতীয় রক্ষী বাহিনী বা সেনা মোতায়েন করতে পারেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত নজির হিসেবেই দেখা হচ্ছে।