ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

লুটপাটের অভিযোগে ৬ ফিলিস্তিনিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দিল হামাস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / 206

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। খাদ্য সংকটে বিপর্যস্ত অঞ্চলে লুটপাটের অভিযোগে ছয় ফিলিস্তিনিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে হামাস। একই সঙ্গে ১৩ জনকে পায়ে গুলি করে আহত করা হয়েছে।

হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, পরবর্তী দুই দিনের মধ্যেই আরও অপরাধীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তারা হুঁশিয়ার করে বলেছে, ‘যারা এই বার্তা অমান্য করবে, তারা এর সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে নেবে।’
সিএনএনের গাজা প্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও বিধ্বস্ত অবকাঠামোর মাঝে এখন সশস্ত্র গ্যাং রাস্তায় নেমে লুটপাট চালাচ্ছে। তারা জীবন রক্ষার্থে খাবারের খোঁজে বিভিন্ন গুদামঘরে হানা দিচ্ছে। হামাসের দাবি, এসব গ্যাংয়ের একটি অংশ ইসরায়েলের সহযোগী এবং তারা হামাসের শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

আরও পড়ুন  আবারও গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার কারণে জাতিসংঘ মহাসচিবের ক্ষোভ

গত বুধবার রাতে হাজার হাজার মানুষ গাজা শহরের একাধিক জাতিসংঘ অফিস ও গুদামে ঢুকে পড়ে, যেখান থেকে সামান্য পরিমাণ ময়দা ও টিনজাত খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করে তারা। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, মানুষের চোখে-মুখে ছিলো বাঁচার আকুতি।

হামাস শনিবার আরও দাবি করে, ‘কিছু অপরাধী এবং দখলদারদের দোসর নাগরিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলছে, ভয় ছড়াচ্ছে এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে।’

প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই উপত্যকায় এখন দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রবল। ইসরায়েল গত ২ মার্চ থেকে গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে শিশুরাও এখন মারাত্মক অপুষ্টির শিকার হচ্ছে।

গাজার নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আহমদ আল-ফাররা সতর্ক করেছেন, ‘যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুমৃত্যুর ঢেউ নেমে আসতে পারে।’

শনিবার গাজার আল-রানতিসি হাসপাতালে দুই মাস বয়সী জানান সালেহ আল-সাকাফি অপুষ্টিতে মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বারশ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, খুব শিগগিরই একটি বেসরকারি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে। তবে নির্দিষ্ট কাঠামো এখনো জানানো হয়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজায় আক্রমণ আরও জোরদার করতে চলতি সপ্তাহে দশ হাজারের বেশি রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র: সিএনএন

নিউজটি শেয়ার করুন

লুটপাটের অভিযোগে ৬ ফিলিস্তিনিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দিল হামাস

আপডেট সময় ১২:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

 

ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। খাদ্য সংকটে বিপর্যস্ত অঞ্চলে লুটপাটের অভিযোগে ছয় ফিলিস্তিনিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে হামাস। একই সঙ্গে ১৩ জনকে পায়ে গুলি করে আহত করা হয়েছে।

হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, পরবর্তী দুই দিনের মধ্যেই আরও অপরাধীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তারা হুঁশিয়ার করে বলেছে, ‘যারা এই বার্তা অমান্য করবে, তারা এর সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে নেবে।’
সিএনএনের গাজা প্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও বিধ্বস্ত অবকাঠামোর মাঝে এখন সশস্ত্র গ্যাং রাস্তায় নেমে লুটপাট চালাচ্ছে। তারা জীবন রক্ষার্থে খাবারের খোঁজে বিভিন্ন গুদামঘরে হানা দিচ্ছে। হামাসের দাবি, এসব গ্যাংয়ের একটি অংশ ইসরায়েলের সহযোগী এবং তারা হামাসের শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

আরও পড়ুন  শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতাদের সংলাপে আহ্বান নতুন পোপ লিও চতুর্দশের

গত বুধবার রাতে হাজার হাজার মানুষ গাজা শহরের একাধিক জাতিসংঘ অফিস ও গুদামে ঢুকে পড়ে, যেখান থেকে সামান্য পরিমাণ ময়দা ও টিনজাত খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করে তারা। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, মানুষের চোখে-মুখে ছিলো বাঁচার আকুতি।

হামাস শনিবার আরও দাবি করে, ‘কিছু অপরাধী এবং দখলদারদের দোসর নাগরিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলছে, ভয় ছড়াচ্ছে এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে।’

প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই উপত্যকায় এখন দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রবল। ইসরায়েল গত ২ মার্চ থেকে গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে, যার ফলে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে শিশুরাও এখন মারাত্মক অপুষ্টির শিকার হচ্ছে।

গাজার নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আহমদ আল-ফাররা সতর্ক করেছেন, ‘যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুমৃত্যুর ঢেউ নেমে আসতে পারে।’

শনিবার গাজার আল-রানতিসি হাসপাতালে দুই মাস বয়সী জানান সালেহ আল-সাকাফি অপুষ্টিতে মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছেন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বারশ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, খুব শিগগিরই একটি বেসরকারি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানো হবে। তবে নির্দিষ্ট কাঠামো এখনো জানানো হয়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজায় আক্রমণ আরও জোরদার করতে চলতি সপ্তাহে দশ হাজারের বেশি রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র: সিএনএন