ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

টমেটো চাষের দুঃস্বপ্ন: সুনামগঞ্জের চাষিরা বিপদে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
  • / 412

ছবি: সংগৃহীত

 

সুনামগঞ্জের চাষিরা এবার টমেটো চাষে ভেবেছিলেন স্বপ্ন পূরণ হবে, কিন্তু এখন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। লাখ টাকা বিনিয়োগের পরেও চাষিরা তাদের ফসল বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ক্ষেতেই ঝরে পড়ছে টমেটো, আর যা বেচতে পারছেন তা বিক্রি করে শ্রমিক ও পরিবহন খরচও উঠছে না।

জামালগঞ্জ, মান্নানঘাট, গজারিয়া, কাশীপুর, শরীফপুরসহ ১৫টি গ্রামের চাষিরা এ বছর বড় ক্ষতির মুখে। কাশীপুর গ্রামের চাষি আব্দুল কাদির বলেন, “এই বছর প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছি টমেটো চাষে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকারও টমেটো বিক্রি করতে পারিনি। বাকি সব ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” বাজারে চাহিদা না থাকার কারণে, চাষিরা যে কয়টি টমেটো বিক্রি করেছেন তাও তিক্ত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন  সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

এছাড়া, জামালগঞ্জের হারুন মিয়া বলেন, “এলাকায় টমেটোর দাম এখন এক টাকা কেজি, যা শ্রমিক ও পরিবহন খরচও পুষিয়ে দিচ্ছে না। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, এখন মনে হচ্ছে ঋণের বোঝা নিয়ে এলাকা ছাড়তে হবে।” পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, চাষিরা হিমাগারের অভাবে টমেটো সংরক্ষণ করতে পারছেন না। এতে তাদের পরিশ্রম এবং বিনিয়োগ পুরোপুরি অপচয় হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সুনামগঞ্জে এবছর টমেটো চাষের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার হেক্টর। কিন্তু প্রকৃত সমস্যার অন্যতম কারণ হলো হিমাগারের অভাব, যা সবজি সংরক্ষণ করতে না পারার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এতসব সমস্যার মধ্যে, চাষিরা মনে করছেন সরকারের উচিত দ্রুত একটি আধুনিক সবজি সংরক্ষণাগার স্থাপন করা। এতে তারা সহজেই তাদের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করে সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারবেন। এখন শুধু প্রয়োজন সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তার, যাতে চাষিরা তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পেতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

টমেটো চাষের দুঃস্বপ্ন: সুনামগঞ্জের চাষিরা বিপদে

আপডেট সময় ১২:৪১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

 

সুনামগঞ্জের চাষিরা এবার টমেটো চাষে ভেবেছিলেন স্বপ্ন পূরণ হবে, কিন্তু এখন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। লাখ টাকা বিনিয়োগের পরেও চাষিরা তাদের ফসল বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ক্ষেতেই ঝরে পড়ছে টমেটো, আর যা বেচতে পারছেন তা বিক্রি করে শ্রমিক ও পরিবহন খরচও উঠছে না।

জামালগঞ্জ, মান্নানঘাট, গজারিয়া, কাশীপুর, শরীফপুরসহ ১৫টি গ্রামের চাষিরা এ বছর বড় ক্ষতির মুখে। কাশীপুর গ্রামের চাষি আব্দুল কাদির বলেন, “এই বছর প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছি টমেটো চাষে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ১০ হাজার টাকারও টমেটো বিক্রি করতে পারিনি। বাকি সব ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” বাজারে চাহিদা না থাকার কারণে, চাষিরা যে কয়টি টমেটো বিক্রি করেছেন তাও তিক্ত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন  সোমেশ্বরী নদী: এক সময়ের খরস্রোতা নদী এখন মৃতপ্রায়

এছাড়া, জামালগঞ্জের হারুন মিয়া বলেন, “এলাকায় টমেটোর দাম এখন এক টাকা কেজি, যা শ্রমিক ও পরিবহন খরচও পুষিয়ে দিচ্ছে না। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, এখন মনে হচ্ছে ঋণের বোঝা নিয়ে এলাকা ছাড়তে হবে।” পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, চাষিরা হিমাগারের অভাবে টমেটো সংরক্ষণ করতে পারছেন না। এতে তাদের পরিশ্রম এবং বিনিয়োগ পুরোপুরি অপচয় হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সুনামগঞ্জে এবছর টমেটো চাষের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার হেক্টর। কিন্তু প্রকৃত সমস্যার অন্যতম কারণ হলো হিমাগারের অভাব, যা সবজি সংরক্ষণ করতে না পারার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এতসব সমস্যার মধ্যে, চাষিরা মনে করছেন সরকারের উচিত দ্রুত একটি আধুনিক সবজি সংরক্ষণাগার স্থাপন করা। এতে তারা সহজেই তাদের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করে সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারবেন। এখন শুধু প্রয়োজন সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তার, যাতে চাষিরা তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পেতে পারেন।