ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর অব্যাহতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৯:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 0

ছবি: সংগৃহীত

বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে ন্যূনতম টার্নওভার কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে টার্নওভারের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ন্যূনতম করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে কোনো ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে না। ২ কোটি টাকার বেশি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে করহার হবে ০.২৫ শতাংশ।

৩ কোটি টাকার বেশি থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ০.৫০ শতাংশ। আর ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে।

আরও পড়ুন  জাপার তিন শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল, রুহুল আমিন ও মুজিবুল হক চুন্নুকে দল থেকে অব্যাহতি

প্রস্তাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার করই বহাল থাকবে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। এরপর এটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোট ব্যবসা এবং তুলনামূলক কম টার্নওভার করা কোম্পানিগুলোর করের চাপ কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ব্যবসা লাভে থাকুক কিংবা লোকসানে, টার্নওভারের ওপর ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হয়।

ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে যখন অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি ভালো খবর।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে কর আরোপ করা উচিত। প্রকৃত মুনাফার ওপর কর নিশ্চিত করতে ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিল করা প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদও বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, প্রস্তাবিত করহারে ছাড় ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

অন্যদিকে, কিছু অংশীজন উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসার জন্য কর অব্যাহতি দেওয়া হলে কিছু ব্যবসা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে বিক্রি কম দেখানোর চেষ্টা করতে পারে।

এর আগে গত বছরের বাজেটে ন্যূনতম টার্নওভার কর ১ শতাংশ করা হয়। এতে কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা ব্যবসাগুলোর করের বোঝা বেড়ে যায়।

এফবিসিসিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, কোনো ব্যবসার বিক্রি ৫০ লাখ টাকা এবং মুনাফা ৫ শতাংশ হলে তার আয় দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ১ শতাংশ টার্নওভার করের কারণে ওই ব্যবসাকে ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হয়।

একইভাবে, ১ কোটি টাকা বিক্রি ও ৫ লাখ টাকা মুনাফা করা একটি ব্যবসার নিয়মিত আয়কর ১০ হাজার টাকা হলেও ন্যূনতম টার্নওভার কর হিসেবে দিতে হয় ১ লাখ টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর অব্যাহতি

আপডেট সময় ১০:০৯:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে ন্যূনতম টার্নওভার কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে টার্নওভারের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ন্যূনতম করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে কোনো ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে না। ২ কোটি টাকার বেশি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে করহার হবে ০.২৫ শতাংশ।

৩ কোটি টাকার বেশি থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম করহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ০.৫০ শতাংশ। আর ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানিকে ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে।

আরও পড়ুন  জাপার তিন শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল, রুহুল আমিন ও মুজিবুল হক চুন্নুকে দল থেকে অব্যাহতি

প্রস্তাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা ব্যবসা ও কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১ শতাংশ ন্যূনতম টার্নওভার করই বহাল থাকবে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপ ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেছেন। এরপর এটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোট ব্যবসা এবং তুলনামূলক কম টার্নওভার করা কোম্পানিগুলোর করের চাপ কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ব্যবসা লাভে থাকুক কিংবা লোকসানে, টার্নওভারের ওপর ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হয়।

ভ্যাট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশে যখন অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি ভালো খবর।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে কর আরোপ করা উচিত। প্রকৃত মুনাফার ওপর কর নিশ্চিত করতে ন্যূনতম টার্নওভার কর পুরোপুরি বাতিল করা প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদও বিদ্যমান ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া মনে করেন, প্রস্তাবিত করহারে ছাড় ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

অন্যদিকে, কিছু অংশীজন উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসার জন্য কর অব্যাহতি দেওয়া হলে কিছু ব্যবসা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে বিক্রি কম দেখানোর চেষ্টা করতে পারে।

এর আগে গত বছরের বাজেটে ন্যূনতম টার্নওভার কর ১ শতাংশ করা হয়। এতে কম মুনাফা বা লোকসানে থাকা ব্যবসাগুলোর করের বোঝা বেড়ে যায়।

এফবিসিসিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, কোনো ব্যবসার বিক্রি ৫০ লাখ টাকা এবং মুনাফা ৫ শতাংশ হলে তার আয় দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু ১ শতাংশ টার্নওভার করের কারণে ওই ব্যবসাকে ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হয়।

একইভাবে, ১ কোটি টাকা বিক্রি ও ৫ লাখ টাকা মুনাফা করা একটি ব্যবসার নিয়মিত আয়কর ১০ হাজার টাকা হলেও ন্যূনতম টার্নওভার কর হিসেবে দিতে হয় ১ লাখ টাকা।