৬ মাসের সরকার বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট তৈরি করেনি’: নুর
- আপডেট সময় ০৭:২০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / 26
মাত্র ছয় মাসের সরকার এসে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি জটিলতা তৈরি করেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে জাতীয় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি নীতিগত আলোচনার পরিবর্তে আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার ৩০ আগস্ট দুপুরে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতের কিছুটা সংকট রয়েছে এবং এটি একটি জাতীয় সংকট। তবে ছয় মাসের সরকার এসে এই বিদ্যুৎ-জ্বালানি জটিলতা তৈরি করেনি।
তিনি বলেন, নীতিগত আলোচনা বাদ দিয়ে বিরোধী দল বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করলে দেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৫-পরবর্তী অস্থির সময়ে গ্রামগঞ্জে গিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্র বিনির্মাণে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দল-মত নির্বিশেষে গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় গিয়ে মানুষকে দেশের কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন।
বর্তমান সরকারকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নুর বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারের মাধ্যমে দেশকে অনেকটা সঠিক গন্তব্যের দিকে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে পুরোপুরি পাঁচ বছরে সম্ভব না হলেও বাংলাদেশকে একটি মানসম্মত অবস্থানে দাঁড় করানো যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে এতে পরিবর্তন এসেছে। আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারতনির্ভর বলা হলেও সরকার সেখান থেকে শক্তভাবে ফিরে এসেছে। এখন বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে নিজের পররাষ্ট্রনীতি বিবেচনা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ২০২৮ সালের মধ্যে পটুয়াখালী ইপিজেড চালুর পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রকল্পের ৪৭ শতাংশ কাজ এগিয়েছে। আগামী দেড় বছরে কতটা কাজ শেষ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে তার ব্যক্তিগতভাবে সংশয় রয়েছে।
তবে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য বর্তমান সরকার তাগিদ দিয়েছে বলে জানান তিনি। নিজের জেলা হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে তিনি পরিদর্শনে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
ইপিজেড চালু হলে পটুয়াখালীতে লাখ লাখ বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে পটুয়াখালী ইপিজেড নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





















