বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে শুরু হচ্ছে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ
- আপডেট সময় ০৬:৩৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।
রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও মূল্যবান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক ‘যৌথ ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্বে’ উন্নীত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।
অন্যদিকে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে তার সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তিনি চীনের নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন ফলাফল ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। এর মধ্যে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মংলা বন্দরের আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় রয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, সিইআইজেডে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগসহ প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি আকৃষ্ট হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার সহযোগিতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে সহযোগিতার বিষয়ও উঠে আসে।
এদিকে চীনা রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের পরিকল্পনার কথাও জানান। এর মধ্যে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সির (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ডেপুটি গভর্নরের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে।
বৈঠকের শেষ দিকে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে আগামী অক্টোবর মাসে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।




















