ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধে ল্যান্ডফোনমুখী রাশিয়া পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সম্ভাবনা, কিছু গ্রহ হতে পারে আরও উপযোগী ফুসফুসে ক্যান্সার, পোপ লিওর অস্ত্রোপচার স্বামীর জায়গায় ট্রাম্পের নাম বলে ভাইরাল হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সচিব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম করলে ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী তরুণদের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে: মমতা সরকারি হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সমন্বিত নীতিমালা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

এক মিনিটের সিদ্ধান্তে বাঁচল ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 114

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে মাত্র এক মিনিটের সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। পাহাড়ি ঢলের খবর পাওয়ার পর দ্রুত স্কুল খালি করার পাশাপাশি স্কুলবাসগুলোকে নিরাপদ উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই স্কুলের পাশের একটি সেতু ধসে পড়ে এবং পানির স্রোতে ভেসে যায় বিদ্যালয় ভবন।

২৬ আগস্ট বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছিল। তখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী স্কুলে পৌঁছেছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী হেঁটে ও স্কুলবাসে করে বিদ্যালয়ের পথে ছিল।

এ সময় স্কুল থেকে ৭-৮ কিলোমিটার দূরের উজানের বেত্রাবতী গ্রামের এক বাসিন্দা ফোন করে প্রধান শিক্ষক দাদাবিকে জানান, তাদের গ্রাম পানিতে ভেসে গেছে এবং প্রবল ঢল দ্রুত নিচের দিকে এগিয়ে আসছে। একই সময়ে স্কুল এলাকার এক অভিভাবকও এসে দ্রুত পানি বাড়ার খবর দেন।

আরও পড়ুন  শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় কুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষা উপদেষ্টা

দুটি পৃথক সূত্র থেকে বিপদের খবর পাওয়ার পর দেরি করেননি দাদাবি। তিনি শিক্ষকদের স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে তখনও বিপদের মধ্যে ছিল স্কুলে আসতে থাকা প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী। কয়েকটি স্কুলবাসে থাকা এসব শিক্ষার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বাসচালকদের ফোন করেন দাদাবি। স্কুলে না এসে নিরাপদ কোনো উঁচু স্থানে বাসগুলো অবস্থান করার নির্দেশ দেন তিনি।

তবে একটি বাসের সঙ্গে তখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণ পর দাদাবি দেখতে পান, বাসটি স্কুলের কাছের একটি সেতু পার হচ্ছে। চারদিকে পানি ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি স্কুলের মাঠেও বন্যার স্রোত ঢুকে পড়েছিল।

দাদাবি বাসচালককে বাস ঘুরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ততক্ষণে বাসটি সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত বাসটি নিরাপদে সেতুর অপর পারে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সেতুটি ধসে পড়ে।

এর মধ্যে বন্যার পানি স্কুল ভবনে ঢুকে পড়ে। প্রবল স্রোতে বিদ্যালয়ের একের পর এক ভবন ভেসে যেতে থাকে। তখন দাদাবি ও অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যান। হেঁটে নিরাপদ উঁচু জায়গায় পৌঁছায় শিশুরা।

পেছনে তখন ধ্বংস হয়ে গেছে তাদের স্কুল। শ্রেণিকক্ষ, মাঠ—কিছুই আর আগের অবস্থায় ছিল না। তবে নিরাপদে ছিল বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী।

দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে শিক্ষকের অসাধারণ সিদ্ধান্তের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ৪৭ বছর বয়সী রাজেন্দ্র দাদাবি নিজের ভূমিকা নিয়ে বলেন, তিনি অন্যদের মতোই তার দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এক মিনিটের সিদ্ধান্তে বাঁচল ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীর প্রাণ

আপডেট সময় ০৫:৫৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে মাত্র এক মিনিটের সিদ্ধান্তে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। পাহাড়ি ঢলের খবর পাওয়ার পর দ্রুত স্কুল খালি করার পাশাপাশি স্কুলবাসগুলোকে নিরাপদ উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই স্কুলের পাশের একটি সেতু ধসে পড়ে এবং পানির স্রোতে ভেসে যায় বিদ্যালয় ভবন।

২৬ আগস্ট বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছিল। তখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী স্কুলে পৌঁছেছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী হেঁটে ও স্কুলবাসে করে বিদ্যালয়ের পথে ছিল।

এ সময় স্কুল থেকে ৭-৮ কিলোমিটার দূরের উজানের বেত্রাবতী গ্রামের এক বাসিন্দা ফোন করে প্রধান শিক্ষক দাদাবিকে জানান, তাদের গ্রাম পানিতে ভেসে গেছে এবং প্রবল ঢল দ্রুত নিচের দিকে এগিয়ে আসছে। একই সময়ে স্কুল এলাকার এক অভিভাবকও এসে দ্রুত পানি বাড়ার খবর দেন।

আরও পড়ুন  ঢাবির বিজয় একাত্তর হলে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

দুটি পৃথক সূত্র থেকে বিপদের খবর পাওয়ার পর দেরি করেননি দাদাবি। তিনি শিক্ষকদের স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে তখনও বিপদের মধ্যে ছিল স্কুলে আসতে থাকা প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী। কয়েকটি স্কুলবাসে থাকা এসব শিক্ষার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বাসচালকদের ফোন করেন দাদাবি। স্কুলে না এসে নিরাপদ কোনো উঁচু স্থানে বাসগুলো অবস্থান করার নির্দেশ দেন তিনি।

তবে একটি বাসের সঙ্গে তখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণ পর দাদাবি দেখতে পান, বাসটি স্কুলের কাছের একটি সেতু পার হচ্ছে। চারদিকে পানি ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি স্কুলের মাঠেও বন্যার স্রোত ঢুকে পড়েছিল।

দাদাবি বাসচালককে বাস ঘুরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ততক্ষণে বাসটি সেতুর মাঝামাঝি পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত বাসটি নিরাপদে সেতুর অপর পারে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সেতুটি ধসে পড়ে।

এর মধ্যে বন্যার পানি স্কুল ভবনে ঢুকে পড়ে। প্রবল স্রোতে বিদ্যালয়ের একের পর এক ভবন ভেসে যেতে থাকে। তখন দাদাবি ও অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যান। হেঁটে নিরাপদ উঁচু জায়গায় পৌঁছায় শিশুরা।

পেছনে তখন ধ্বংস হয়ে গেছে তাদের স্কুল। শ্রেণিকক্ষ, মাঠ—কিছুই আর আগের অবস্থায় ছিল না। তবে নিরাপদে ছিল বিদ্যালয়ের ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থী।

দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে শিক্ষকের অসাধারণ সিদ্ধান্তের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে ৪৭ বছর বয়সী রাজেন্দ্র দাদাবি নিজের ভূমিকা নিয়ে বলেন, তিনি অন্যদের মতোই তার দায়িত্ব পালন করেছেন।