ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
মোটরসাইকেলের ধা*ক্কা*য় ঠাকুরগাঁওয়ে পথচারীসহ ২ জন নি*হ*ত আ: লীগ ও হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন হরমুজ প্রণালির সংকটে ইরাকের তেল রপ্তানি কমেছে ৭৫ শতাংশ কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ জাপানে তাণ্ডব চালিয়ে চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে টাইফুন ডলফিন ‘সিলেটে দুই বাসের সং/ঘ/র্ষে নি/হ/তদের পরিবার পাবে ৫ লাখ করে টাকা’ জুলাই যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী নতুন করে দেশ গড়ার সময় একটি মহল অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে কি কমছে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব?

কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। পরে এসব ইলিশ মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের ট্রলারে জাল ফেলেন মাঝি আলমগীর। একবার জাল ফেলার পর ট্রলারের জালে উঠে আসে প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ।

পরে মাছ নিয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে। সেখানে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে ইলিশগুলো বিক্রি করা হয়।

আরও পড়ুন  ইলিশ বিক্রির নাম করে অনলাইনে প্রতারণা, ৭০ সিমসহ গ্রেপ্তার ৮

আড়ত সূত্রে জানা যায়, মোট ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ছিল ২৪ মণ। এসব ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বা প্রতি কেজি ২ হাজার ৮৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে ২৪ মণ ইলিশের দাম ওঠে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা বা প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ অংশের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়।

সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ নিলামে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন তাঁরা। একবার জাল ফেলতেই প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন পরিমাণ মাছ পাওয়ায় তাঁরা খুশি।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বাজারে বর্তমানে ইলিশের দাম বেশি থাকায় জেলেরা ভালো মূল্য পেয়েছেন। সাধারণত এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা স্বস্তির খবর। এতে জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

তবে একদিনে বেশি পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়াকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান বখতিয়ার রহমান। তাঁর মতে, বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যেতে পারে।

এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুয়াকাটায় এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ

আপডেট সময় ০৬:২৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। পরে এসব ইলিশ মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের ট্রলারে জাল ফেলেন মাঝি আলমগীর। একবার জাল ফেলার পর ট্রলারের জালে উঠে আসে প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ।

পরে মাছ নিয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে। সেখানে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে ইলিশগুলো বিক্রি করা হয়।

আরও পড়ুন  ইলিশ বিক্রির নাম করে অনলাইনে প্রতারণা, ৭০ সিমসহ গ্রেপ্তার ৮

আড়ত সূত্রে জানা যায়, মোট ৪৬ মণ ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ছিল ২৪ মণ। এসব ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বা প্রতি কেজি ২ হাজার ৮৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে ২৪ মণ ইলিশের দাম ওঠে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা বা প্রতি কেজি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। এ অংশের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়।

সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ নিলামে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছেন তাঁরা। একবার জাল ফেলতেই প্রায় ২ হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এমন পরিমাণ মাছ পাওয়ায় তাঁরা খুশি।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বাজারে বর্তমানে ইলিশের দাম বেশি থাকায় জেলেরা ভালো মূল্য পেয়েছেন। সাধারণত এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা স্বস্তির খবর। এতে জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

তবে একদিনে বেশি পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়াকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানান বখতিয়ার রহমান। তাঁর মতে, বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া যেতে পারে।

এতে জেলে, আড়তদারসহ ইলিশ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবেন বলে জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।