ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ জোহানেসবার্গে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ১২ জন নিহত আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসির ও তামিমার খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে বাদী পক্ষ ইরানের সমর্থকরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন না বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির কথা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারতের ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয় অবস্থায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের পতন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 27

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জেরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এই মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের এই দরপতনের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে দেশীয় খাত সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৮ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববাজারে এই ধাতুর সামগ্রিক চাহিদা কমিয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন  শুল্ক-যুদ্ধের ঘূর্ণিপাকে বিশ্ববাজার, শুল্ক নিয়ে উদ্বেগে একের পর এক ফোন কল হোয়াইট হাউসে : ট্রাম্প প্রশাসন

এই বাজার পরিস্থিতির পেছনে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি এলাকায় একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে, যা চলমান যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই ঘটনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘায়িত করা এবং উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কাকে জোরালো করেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ৭০ শতাংশের বেশি বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণকে সাধারণত সংকটের সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হারের কারণে এর আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি কেমন হবে, তা নিশ্চিত হতে বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতে স্বর্ণ আমদানির শুল্ক বাড়ানোর কারণে চোরাচালান ব্যাপক হারে বেড়েছে এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছর দেশটিতে ১০০ মেট্রিক টনের বেশি স্বর্ণ অবৈধ পথে প্রবেশ করতে পারে।

বিশ্ববাজারে দাম কমার এই প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের বড় ধরনের পরিবর্তন হলে দেশীয় বাজারেও সাধারণত মূল্যের সমন্বয় করা হয়ে থাকে। এর আগে সবশেষ গত ৬ জুন বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতু যেমন—রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের পতন

আপডেট সময় ১১:২০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জেরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এই মূল্যবান ধাতুর দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের এই দরপতনের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে দেশীয় খাত সংশ্লিষ্টরা আভাস দিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৮ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববাজারে এই ধাতুর সামগ্রিক চাহিদা কমিয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন  দুবাই মেলায় ইরানের প্রযুক্তির বিকাশ এবং বিশ্ববাজারে বড় বদল

এই বাজার পরিস্থিতির পেছনে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি এলাকায় একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে, যা চলমান যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই ঘটনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘায়িত করা এবং উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কাকে জোরালো করেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা ৭০ শতাংশের বেশি বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণকে সাধারণত সংকটের সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও উচ্চ সুদের হারের কারণে এর আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি কেমন হবে, তা নিশ্চিত হতে বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতে স্বর্ণ আমদানির শুল্ক বাড়ানোর কারণে চোরাচালান ব্যাপক হারে বেড়েছে এবং বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছর দেশটিতে ১০০ মেট্রিক টনের বেশি স্বর্ণ অবৈধ পথে প্রবেশ করতে পারে।

বিশ্ববাজারে দাম কমার এই প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের বড় ধরনের পরিবর্তন হলে দেশীয় বাজারেও সাধারণত মূল্যের সমন্বয় করা হয়ে থাকে। এর আগে সবশেষ গত ৬ জুন বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতু যেমন—রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।