ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
বঙ্গোপসাগরে পাথরঘাটার ট্রলার ডুবি, ৫ জেলে নিখোঁজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকটে স্বস্তি, মিলছে ১০টি নতুন বাস নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন শি জিনপিং সাংবাদিক রেজোয়ানের বিরুদ্ধে মামলা, সিএমজেএফের নিন্দা ষষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এসব হাসপাতাল কীভাবে অনুমোদন পায় সিডিএ চেয়ারম্যানের প্রশ্ন আমাদের নজরুল তারেক রহমান: চিফ হুইপ বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে ব্রাজিলের একগুচ্ছ শর্ত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশে বাধা নেই: আইনমন্ত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, নারীর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ

ভারতের ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয় অবস্থায়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 70

ছবি সংগৃহীত

 

ভারত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন অবস্থায় রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) এক প্রতিবেদনে। সংস্থাটির মতে, এটি দেশটির দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসআইপিআরআইয়ের সর্বশেষ মূল্যায়নে প্রথমবারের মতো ভারতের ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেডকে ‘মোতায়েনকৃত’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ও সেগুলো বহনের ব্যবস্থা সাধারণত পৃথকভাবে সংরক্ষিত থাকত বলে ধারণা করা হতো।

আরও পড়ুন  ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্তের পথে

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিনে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় অস্ত্র মোতায়েন উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এসআইপিআরআইয়ের মতে, এসব ওয়ারহেড প্রথমবারের মতো বহনকারী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অথবা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত বছর একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন এবং প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার পাশাপাশি ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

সোমবার (৯ জুন) প্রকাশিত এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন নিয়ে গঠিত পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক সক্ষমতার অংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হচ্ছিল যে শান্তিকালীন সময়ে ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্রগুলো মোতায়েনযোগ্য লঞ্চার থেকে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ক্যানিস্টারভিত্তিক সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল বৃদ্ধির ফলে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটি কিছু ওয়ারহেডকে শান্তিকালেই লঞ্চারের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার নীতির দিকে অগ্রসর হতে পারে।

তবে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আগে ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না এবং কেবল ভারতের ভূখণ্ড বা বিশ্বের অন্য কোথাও অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলার জবাবে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কথা বলে থাকে।

এসআইপিআরআইয়ের এই মূল্যায়ন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক পারমাণবিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয় অবস্থায়

আপডেট সময় ১১:৪৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

ভারত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন অবস্থায় রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) এক প্রতিবেদনে। সংস্থাটির মতে, এটি দেশটির দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসআইপিআরআইয়ের সর্বশেষ মূল্যায়নে প্রথমবারের মতো ভারতের ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেডকে ‘মোতায়েনকৃত’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ও সেগুলো বহনের ব্যবস্থা সাধারণত পৃথকভাবে সংরক্ষিত থাকত বলে ধারণা করা হতো।

আরও পড়ুন  ভারত-কানাডা সম্পর্কে বরফ গলছে, ২ বছর পরে কূটনৈতিক সমঝোতা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিনে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় অস্ত্র মোতায়েন উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এসআইপিআরআইয়ের মতে, এসব ওয়ারহেড প্রথমবারের মতো বহনকারী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অথবা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত বছর একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন এবং প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনার পাশাপাশি ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

সোমবার (৯ জুন) প্রকাশিত এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন নিয়ে গঠিত পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক সক্ষমতার অংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হচ্ছিল যে শান্তিকালীন সময়ে ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্রগুলো মোতায়েনযোগ্য লঞ্চার থেকে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ক্যানিস্টারভিত্তিক সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধমূলক টহল বৃদ্ধির ফলে ধারণা করা হচ্ছে, দেশটি কিছু ওয়ারহেডকে শান্তিকালেই লঞ্চারের সঙ্গে সংযুক্ত রাখার নীতির দিকে অগ্রসর হতে পারে।

তবে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আগে ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না এবং কেবল ভারতের ভূখণ্ড বা বিশ্বের অন্য কোথাও অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলার জবাবে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কথা বলে থাকে।

এসআইপিআরআইয়ের এই মূল্যায়ন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক পারমাণবিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।