ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ জোহানেসবার্গে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ১২ জন নিহত আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসির ও তামিমার খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে বাদী পক্ষ ইরানের সমর্থকরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন না বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির কথা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারতের ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয় অবস্থায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের পতন

আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 9

ছবি সংগৃহীত

 

মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাবে প্রয়োজনীয় ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক ও অস্পষ্ট বিষয় বেশি রয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালের পাঠানো চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার লিখিত জবাবটি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে মূল বিষয়ের বাইরে অনেক গল্প-কাহিনী লেখা হয়েছে এবং সামগ্রিক উত্তরটি অত্যন্ত অস্পষ্ট।

আরও পড়ুন  দেশে ১৫ লাখ ডোজ হামের ভ্যাকসিন পৌঁছেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিনি জানান, আজ বুধবার এ বিষয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং ওই বৈঠকের পরই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে, ২০২৬ তারিখে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত ত্রুটি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক গুরুতর দিক উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের রাখার জন্য কোনোভাবেই উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব থাকার পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও ছিল অপ্রতুল এবং তা অনিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নবজাতকদের মৃত্যুর ওই অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে ওয়ার্ডে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং শিশুদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ার পরও সময়মতো জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়নি।

কমিটির তদন্ত অনুযায়ী, প্রসবের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল এবং প্রসব-পরবর্তী কোনো জটিলতা না থাকায় তাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজন ছিল না।
তবে হঠাৎ তাদের অবস্থার অবনতি হলে যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা গ্রহণে চরম ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও সেখানে তুলে ধরা হয়।

এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত ৪ জুন, ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া জবাবে প্রয়োজনীয় ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক ও অস্পষ্ট বিষয় বেশি রয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালের পাঠানো চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার লিখিত জবাবটি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে মূল বিষয়ের বাইরে অনেক গল্প-কাহিনী লেখা হয়েছে এবং সামগ্রিক উত্তরটি অত্যন্ত অস্পষ্ট।

আরও পড়ুন  চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিনি জানান, আজ বুধবার এ বিষয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং ওই বৈঠকের পরই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে, ২০২৬ তারিখে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত ত্রুটি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক গুরুতর দিক উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের রাখার জন্য কোনোভাবেই উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব থাকার পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও ছিল অপ্রতুল এবং তা অনিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নবজাতকদের মৃত্যুর ওই অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে ওয়ার্ডে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং শিশুদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ার পরও সময়মতো জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়নি।

কমিটির তদন্ত অনুযায়ী, প্রসবের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল এবং প্রসব-পরবর্তী কোনো জটিলতা না থাকায় তাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজন ছিল না।
তবে হঠাৎ তাদের অবস্থার অবনতি হলে যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা গ্রহণে চরম ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও সেখানে তুলে ধরা হয়।

এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত ৪ জুন, ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল।