তীব্র তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক
- আপডেট সময় ১০:১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / 31
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে নতুন করে তারল্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, গত সাত কার্যদিবসে গ্রাহকরা প্রায় ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর এক শ্রেণির গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে আমানতের ওপর। ধারাবাহিক আমানত উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটির তারল্য ব্যবস্থাপনা চাপে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা হওয়ার কথা। তবে সাম্প্রতিক আমানত উত্তোলনের চাপে তা কমে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাবের ভারসাম্যও চাপের মুখে রয়েছে বলে জানা গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি তহবিল বা বিশেষ তারল্য সহায়তার আবেদন করেছে। ব্যাংকটির দাবি, গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে এ সহায়তা প্রয়োজন।
ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ককে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। গত ২৪ মে চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলম নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে ব্যাংকের কিছু গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে কয়েকদিন ধরে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ ব্যাংকের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন।
তবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একটি অংশ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার মতে, দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার কারণে মো. খুরশীদ আলম সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।
ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় আমানতভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা উত্তোলন তাৎক্ষণিকভাবে অস্তিত্ব সংকট তৈরি না করলেও গ্রাহকদের আস্থাহীনতার বার্তা উদ্বেগের বিষয়। তাদের মতে, এই প্রবণতা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের প্রবণতা এবং অর্থ কোথায় স্থানান্তর হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে এমন অবস্থায় নেই যে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবে। প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী রয়েছে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের কারণে কিছু গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।
























