ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ জোহানেসবার্গে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ১২ জন নিহত আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসির ও তামিমার খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে বাদী পক্ষ ইরানের সমর্থকরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন না বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির কথা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারতের ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড সক্রিয় অবস্থায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের পতন

মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

ডিভোর্স না দিয়ে অন্য তরফকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা থেকে চূড়ান্তভাবে খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা উভয়ই সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৬ মে, ২০২৬ তারিখে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন। ওই দিনের শুনানিতে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে খালাসের প্রার্থনা করেছিলেন।

আরও পড়ুন  নাসির ও তামিমার খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে বাদী পক্ষ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে আট বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিব হাসানের নজরে আসে এবং তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে পারেন।

বাদীর পক্ষ থেকে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থাতেই তামিমা ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ। একই সঙ্গে নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আনা হয়। এজাহারে আরও দাবি করা হয়, এই ঘটনার কারণে রাকিব হাসান ও তার নাবালিকা কন্যা মারাত্মক মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন এবং এতে বাদীর চরম মানহানি ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৫০০ এবং ৩৪ ধারায় মামলাটির আবেদন করা হয়েছিল। এতে পূর্বের বিয়ে গোপন রেখে পুনরায় বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করা, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়। ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত এই মামলায় নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিলেও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেন।

এরপর ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাঝপথে রিভিশন আবেদন ও তা খারিজ হওয়ার পর বিচার কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার মূল বিচার শুরু হয়, যা দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

পরবর্তী সময়ে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আইনি প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে তামিমা সুলতানা আদালতে দাবি করেন যে, তিনি আইনগতভাবে তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দেওয়ার পরেই ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। চূড়ান্ত শুনানি ও পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এই দম্পতিকে মামলা থেকে খালাস প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মামলা থেকে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা

আপডেট সময় ০১:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

ডিভোর্স না দিয়ে অন্য তরফকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা থেকে চূড়ান্তভাবে খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা উভয়ই সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৬ মে, ২০২৬ তারিখে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন। ওই দিনের শুনানিতে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে খালাসের প্রার্থনা করেছিলেন।

আরও পড়ুন  নাসির ও তামিমার খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে বাদী পক্ষ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে আট বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিব হাসানের নজরে আসে এবং তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে পারেন।

বাদীর পক্ষ থেকে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থাতেই তামিমা ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ। একই সঙ্গে নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আনা হয়। এজাহারে আরও দাবি করা হয়, এই ঘটনার কারণে রাকিব হাসান ও তার নাবালিকা কন্যা মারাত্মক মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন এবং এতে বাদীর চরম মানহানি ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৫০০ এবং ৩৪ ধারায় মামলাটির আবেদন করা হয়েছিল। এতে পূর্বের বিয়ে গোপন রেখে পুনরায় বিয়ে, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করা, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়। ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত এই মামলায় নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিলেও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেন।

এরপর ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাঝপথে রিভিশন আবেদন ও তা খারিজ হওয়ার পর বিচার কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার মূল বিচার শুরু হয়, যা দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

পরবর্তী সময়ে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আইনি প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে তামিমা সুলতানা আদালতে দাবি করেন যে, তিনি আইনগতভাবে তার পূর্বের স্বামীকে তালাক দেওয়ার পরেই ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। চূড়ান্ত শুনানি ও পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এই দম্পতিকে মামলা থেকে খালাস প্রদান করেন।