ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের পথে ‘এমটি নিনেমিয়া’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 116

ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে বিশাল ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ৩টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা) ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি তার যাত্রা শুরু করে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় জাহাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলতে হচ্ছে না, যা আমদানির ক্ষেত্রে একটি স্বস্তির বিষয়। আবহাওয়া ও সমুদ্র পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ১২ দিনের মধ্যে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী ৪ বা ৫ মে’র মধ্যে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আবারও পুরোদমে জ্বালানি উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ক্রুড অয়েলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিটে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ‘নর্ডিক পোলক্স’ নামক অপর একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছিল। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি।

বাংলাদেশে বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯২ শতাংশই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে আমদানি করতে হয়।

এর মধ্যে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা হয়, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে এলপিজি, পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলসহ ১৬ ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হয়। নিজস্ব শোধনাগারে তেল পরিশোধনের ফলে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম পড়ে এবং বহুমুখী তেলের চাহিদা পূরণ সহজ হয়।

সামষ্টিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘এমটি নিনেমিয়া’র আগমনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা আশা করছেন, মে মাসের শুরুতেই দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের পথে ‘এমটি নিনেমিয়া’

আপডেট সময় ১০:৪১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে বিশাল ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।

গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ৩টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা) ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি তার যাত্রা শুরু করে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় জাহাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলতে হচ্ছে না, যা আমদানির ক্ষেত্রে একটি স্বস্তির বিষয়। আবহাওয়া ও সমুদ্র পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী ১২ দিনের মধ্যে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী ৪ বা ৫ মে’র মধ্যে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আবারও পুরোদমে জ্বালানি উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ক্রুড অয়েলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিটে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ‘নর্ডিক পোলক্স’ নামক অপর একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছিল। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি।

বাংলাদেশে বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯২ শতাংশই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে আমদানি করতে হয়।

এর মধ্যে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা হয়, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে এলপিজি, পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলসহ ১৬ ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হয়। নিজস্ব শোধনাগারে তেল পরিশোধনের ফলে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম পড়ে এবং বহুমুখী তেলের চাহিদা পূরণ সহজ হয়।

সামষ্টিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘এমটি নিনেমিয়া’র আগমনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা আশা করছেন, মে মাসের শুরুতেই দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।