ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

যশোরে বারোমাসি থাই কাঁঠালের চাষে নতুন দিগন্ত, হাবিব খানের সাফল্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 574

ছবি সংগৃহীত

 

 

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান খান থাইল্যান্ডের বারোমাসি কাঁঠালের বাগান করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। আঠাবিহীন, সুগন্ধিযুক্ত ও রসালো এই কাঁঠালের সফল চাষে আশাবাদী কৃষক ও কৃষি বিভাগ। তারা বলছে, বাণিজ্যিকভাবে চাষ ছড়িয়ে পড়লে পুষ্টি ও আর্থিক সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আরও পড়ুন  প্রধান উপদেষ্টার সফরে ফোকাস: অভিবাসন ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত

দেড় বছর আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে থাইল্যান্ড থেকে দেড়শ বারোমাসি কাঁঠালের কলম আনেন হাবিবুর রহমান। ঢাকায় জীবাণুমুক্তকরণের জন্য এসব চারা এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এরপর ১ একর জমিতে গাছগুলো রোপণ করা হয়।

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটির সহায়তায় খাড়া করা সরু গাছগুলোয় গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত ঝুলছে কাঁঠাল। কাঁঠালের ভারে ডাল নুয়ে পড়েছে। তাই অনেক কাঁঠাল পরিপক্ব হওয়ার আগেই কেটে ফেলা হয়েছে। পরিচর্যায় নিয়োজিত হাফিজুর রহমান জানান, ভার্মি কম্পোস্ট দিয়ে মাটি প্রস্তুত করে ভাদ্র মাসে চারা রোপণ করা হয়। রোপণের দুই মাস পরেই গাছে কাঁঠালের মুচি দেখা দেয়, তবে গাছ ছোট হওয়ায় তা কেটে ফেলা হয়।

চলতি বছর প্রতিটি গাছে ২০-৩০টি কাঁঠাল ধরেছে বলে জানান হাফিজুর। তুলনামূলক বড় গাছে কাঁঠাল রাখা হয়। চিকন ডালে ভার সামলাতে না পেরে অনেক কাঁঠাল পরিপক্ব হওয়ার আগেই ‘ইচড়’ হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল বিক্রি করা হয়েছে, আরও অনেক কাঁঠাল গাছে ঝুলে আছে।

কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, “এই কাঁঠাল পাকার এক সপ্তাহ আগেই সুগন্ধ ছড়ায়। আঠাবিহীন রসালো কোষ খেতে অসাধারণ। আগামী বছর থেকে কলম উৎপাদন করে বাজারজাত করবো। কাঁঠালের কোয়া প্যাকেটজাত করে শপিংমলে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে এই জাত ছড়িয়ে দিতে চাই।”

মশ্মিমনগর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “আঠার কারণে অনেকে কাঁঠাল এড়িয়ে চলে। কিন্তু এই জাত আঠাবিহীন হওয়ায় তরুণরাও আগ্রহী হবে। এতে পুষ্টির চাহিদা মেটানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বারোমাসি এই কাঁঠালে বছরে তিন-চারবার ফল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো পুরো মৌসুম পার হয়নি। তারপরও এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ব্যাপক। নিয়মিত আমরা বাগান পরিদর্শন করি এবং পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

মণিরামপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শারমিন শাহানাজ জানান, “বাগানটি নিয়মিত তদারকিতে রয়েছে। কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”

আঠাবিহীন, সুগন্ধি ও সুস্বাদু কাঁঠালের এই সফল চাষ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা। বারোমাসি এই জাত ছড়িয়ে পড়লে দেশের কাঁঠাল উৎপাদনে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

যশোরে বারোমাসি থাই কাঁঠালের চাষে নতুন দিগন্ত, হাবিব খানের সাফল্য

আপডেট সময় ০৬:৩০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

 

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান খান থাইল্যান্ডের বারোমাসি কাঁঠালের বাগান করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। আঠাবিহীন, সুগন্ধিযুক্ত ও রসালো এই কাঁঠালের সফল চাষে আশাবাদী কৃষক ও কৃষি বিভাগ। তারা বলছে, বাণিজ্যিকভাবে চাষ ছড়িয়ে পড়লে পুষ্টি ও আর্থিক সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আরও পড়ুন  যশোরে ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন শুরু: উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেড় বছর আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে থাইল্যান্ড থেকে দেড়শ বারোমাসি কাঁঠালের কলম আনেন হাবিবুর রহমান। ঢাকায় জীবাণুমুক্তকরণের জন্য এসব চারা এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এরপর ১ একর জমিতে গাছগুলো রোপণ করা হয়।

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটির সহায়তায় খাড়া করা সরু গাছগুলোয় গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত ঝুলছে কাঁঠাল। কাঁঠালের ভারে ডাল নুয়ে পড়েছে। তাই অনেক কাঁঠাল পরিপক্ব হওয়ার আগেই কেটে ফেলা হয়েছে। পরিচর্যায় নিয়োজিত হাফিজুর রহমান জানান, ভার্মি কম্পোস্ট দিয়ে মাটি প্রস্তুত করে ভাদ্র মাসে চারা রোপণ করা হয়। রোপণের দুই মাস পরেই গাছে কাঁঠালের মুচি দেখা দেয়, তবে গাছ ছোট হওয়ায় তা কেটে ফেলা হয়।

চলতি বছর প্রতিটি গাছে ২০-৩০টি কাঁঠাল ধরেছে বলে জানান হাফিজুর। তুলনামূলক বড় গাছে কাঁঠাল রাখা হয়। চিকন ডালে ভার সামলাতে না পেরে অনেক কাঁঠাল পরিপক্ব হওয়ার আগেই ‘ইচড়’ হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল বিক্রি করা হয়েছে, আরও অনেক কাঁঠাল গাছে ঝুলে আছে।

কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, “এই কাঁঠাল পাকার এক সপ্তাহ আগেই সুগন্ধ ছড়ায়। আঠাবিহীন রসালো কোষ খেতে অসাধারণ। আগামী বছর থেকে কলম উৎপাদন করে বাজারজাত করবো। কাঁঠালের কোয়া প্যাকেটজাত করে শপিংমলে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে এই জাত ছড়িয়ে দিতে চাই।”

মশ্মিমনগর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “আঠার কারণে অনেকে কাঁঠাল এড়িয়ে চলে। কিন্তু এই জাত আঠাবিহীন হওয়ায় তরুণরাও আগ্রহী হবে। এতে পুষ্টির চাহিদা মেটানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বারোমাসি এই কাঁঠালে বছরে তিন-চারবার ফল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো পুরো মৌসুম পার হয়নি। তারপরও এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ব্যাপক। নিয়মিত আমরা বাগান পরিদর্শন করি এবং পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

মণিরামপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শারমিন শাহানাজ জানান, “বাগানটি নিয়মিত তদারকিতে রয়েছে। কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”

আঠাবিহীন, সুগন্ধি ও সুস্বাদু কাঁঠালের এই সফল চাষ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা। বারোমাসি এই জাত ছড়িয়ে পড়লে দেশের কাঁঠাল উৎপাদনে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।