ঘোড়া নিয়ে জয়ার রিট, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
- আপডেট সময় ১০:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 25
গাজীপুরে ঘোড়া জবাই ও ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে ৬০ দিনের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
রোববার, ৭ জুন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পাশাপাশি একটি রুল জারি করে আদালত জানতে চেয়েছেন, ঘোড়ার মাংস এবং রোগাক্রান্ত পশুর মাংসের অবৈধ জবাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
অভয়ারণ্য বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী জয়া আহসানের যৌথভাবে দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশনা দেন। রিটে দেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান।
শুনানি শেষে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার করা প্রাণীগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাণীগুলোর মধ্যে অপুষ্টি, সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। এছাড়া এসব প্রাণীর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে বিক্রির অভিযোগও উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে আরও দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১ এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন কারখানায় পরিচালিত অবৈধ জবাইখানার সন্ধান পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, আটটি জবাইকৃত ঘোড়া এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়েছিল বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ও মনিটরিং কার্যক্রমে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল বলে জানা গেছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট অভিযোগগুলোর তদন্ত, প্রতিবেদন দাখিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
























