যথাযথ শাস্তি না দিলে বিচারব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে: বিচারক
- আপডেট সময় ০২:০৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
- / 0
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারের আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, এ মামলায় আসামিদের অপরাধ অত্যন্ত জঘন্য ও নৃশংস। তাদের অপরাধ সংশোধনের সুযোগ নেই। এমন অপরাধের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং আদালত তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে।
রায় ঘোষণার আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও এজলাসে আনা হয়। উভয়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রায় পাঠ শুরু করেন বিচারক।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন, যার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। অপরদিকে স্বপ্না আক্তার অপরাধ সংঘটনের পর সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেন এবং ঘটনার তথ্য গোপনের চেষ্টা করেন। ফলে তাকেও একই অপরাধে দায়ী করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আদালত অটোপসি প্রতিবেদন, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে মনে করেছেন। তাই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা প্রত্যাশিত বিচার পেয়েছেন। দ্রুত সময়ে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
























