ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

ইন্টারনেট বন্ধ ও হত্যাযজ্ঞ মামলা: জয়-পলকের বিরুদ্ধে আজ বিটিসিএল কর্মকর্তার সাক্ষ্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 129

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় আজ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি দেওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কার্যক্রম চলবে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আজ রাষ্ট্রপক্ষের পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন  ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

মূল সাক্ষ্যগ্রহণের আগে আজ চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বর্তমানে এই মামলার দুই প্রধান আসামির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

আসামিদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগসমূহ
প্রসিকিউশন এই মামলায় জয় ও পলকের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ফেসবুকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন জুনাইদ আহমেদ পলক। এর প্রভাবে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।

ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে তথ্য আদান-প্রদান বাধাগ্রস্ত করা এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এর ফলে পুলিশ ও দলীয় বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হন।

রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সরাসরি সহায়তা ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছিল আদালত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইন্টারনেট বন্ধ ও হত্যাযজ্ঞ মামলা: জয়-পলকের বিরুদ্ধে আজ বিটিসিএল কর্মকর্তার সাক্ষ্য

আপডেট সময় ১১:১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের মামলায় আজ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি দেওয়ার কথা রয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কার্যক্রম চলবে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আজ রাষ্ট্রপক্ষের পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেবেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন  মামলায় উল্লিখিত ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’, হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

মূল সাক্ষ্যগ্রহণের আগে আজ চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তাকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
বর্তমানে এই মামলার দুই প্রধান আসামির মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

আসামিদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগসমূহ
প্রসিকিউশন এই মামলায় জয় ও পলকের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ফেসবুকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন জুনাইদ আহমেদ পলক। এর প্রভাবে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।

ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে তথ্য আদান-প্রদান বাধাগ্রস্ত করা এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এর ফলে পুলিশ ও দলীয় বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হন।

রাজধানীর উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সরাসরি সহায়তা ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছিল আদালত।