ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

দুই কলেজ শিক্ষককে পার্সেলে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 136

ছবি সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপককে পার্সেলের মাধ্যমে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ চলাকালীন ডাকযোগে আসা দুটি পার্সেল খোলার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হুমকি স্বরূপ পাঠানো কাপড়গুলো জব্দ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তাঁদের সহকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় পোস্ট অফিসের এক কর্মী কলেজের ঠিকানায় দুটি পার্সেল দিয়ে যান। আজ রোববার ওই দুই শিক্ষক কলেজে এসে নিজেদের নামে আসা প্যাকেট দুটি খোলেন। প্যাকেট খুলতেই ভেতরে ভাঁজ করা অবস্থায় নতুন কাফনের কাপড় দেখতে পান তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষক: মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ।
পার্সেলের বিষয়বস্তু: প্রতিটি প্যাকেটের ভেতরে চার খণ্ড করে নতুন কাফনের কাপড় রাখা ছিল।

আরও পড়ুন  ভালোবাসায় প্রিয় শিক্ষককে বিদায়

পার্সেলের গায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রেরকদের ঠিকানা হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আনোয়ার হোসেনের পার্সেলে প্রেরকের নাম ছিল লিখন হোসেন।
আব্দুস সামাদের পার্সেলে প্রেরকের নাম লেখা ছিল জনি আহমেদ।

হুমকি পাওয়ার পর সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার ও সামাদ বলেন, “আমরা শিক্ষকতা করি, কারো সঙ্গে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে বলে মনে পড়ছে না। হঠাৎ এমন হুমকিতে আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন ঘটনাটিকে ‘ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক’ অভিহিত করে জানান, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা গভীরভাবে চিন্তিত এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত জব্দ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে প্রেরকের ঠিকানা সিরাজগঞ্জে। আমরা গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছি এবং প্রেরকদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই কলেজ শিক্ষককে পার্সেলে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি

আপডেট সময় ০৬:৪১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপককে পার্সেলের মাধ্যমে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ চলাকালীন ডাকযোগে আসা দুটি পার্সেল খোলার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হুমকি স্বরূপ পাঠানো কাপড়গুলো জব্দ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তাঁদের সহকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় পোস্ট অফিসের এক কর্মী কলেজের ঠিকানায় দুটি পার্সেল দিয়ে যান। আজ রোববার ওই দুই শিক্ষক কলেজে এসে নিজেদের নামে আসা প্যাকেট দুটি খোলেন। প্যাকেট খুলতেই ভেতরে ভাঁজ করা অবস্থায় নতুন কাফনের কাপড় দেখতে পান তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষক: মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ।
পার্সেলের বিষয়বস্তু: প্রতিটি প্যাকেটের ভেতরে চার খণ্ড করে নতুন কাফনের কাপড় রাখা ছিল।

আরও পড়ুন  শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ শিক্ষার্থীদের করা উচিত নয়: শিক্ষা উপদেষ্টা

পার্সেলের গায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রেরকদের ঠিকানা হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আনোয়ার হোসেনের পার্সেলে প্রেরকের নাম ছিল লিখন হোসেন।
আব্দুস সামাদের পার্সেলে প্রেরকের নাম লেখা ছিল জনি আহমেদ।

হুমকি পাওয়ার পর সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার ও সামাদ বলেন, “আমরা শিক্ষকতা করি, কারো সঙ্গে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা আছে বলে মনে পড়ছে না। হঠাৎ এমন হুমকিতে আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন ঘটনাটিকে ‘ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক’ অভিহিত করে জানান, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা গভীরভাবে চিন্তিত এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত জব্দ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে প্রেরকের ঠিকানা সিরাজগঞ্জে। আমরা গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছি এবং প্রেরকদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।”