ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু জেন-জিদের পর এবার শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতে জেন-আলফার বিক্ষোভ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে শত বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের প্রতিকৃতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড স্মৃতি মন্ধানার কিংবদন্তি গাজী মাজহারুলের প্রয়াণ দিবস আজ নেপালে বন্যার ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২ নাইজেরিয়ায় তেল চুরির ভয়াবহ পরিণতি, নিহত ৪৩ বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা, জানাল আবহাওয়া অফিস

জুলাই-আগস্ট গণহত্যার দায় শেখ হাসিনার, দাবি চিফ প্রসিকিউটরের

গণহত্যা, শেখহাসিনা, চিফপ্রসিকিউটর
  • আপডেট সময় ০৪:২৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
  • / 562

ছবি সংগৃহীত

 

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া সকল হত্যাকাণ্ডের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এসব হত্যার উসকানি, প্ররোচনা এবং সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ফলে, গণহত্যার পূর্ণ দায়ভার তার ওপর বর্তায়।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “জুলাই গণহত্যার প্রতিটি ঘটনার পেছনে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি শেখ হাসিনার। তিনি একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।”

আরও পড়ুন  ২৫ মার্চের গণহত্যা: ইতিহাস জানাতে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এর আগে সোমবার সকাল ১১টার দিকে তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর ও তদন্ত কর্মকর্তারা গণহত্যা সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও সরাসরি নির্দেশ দেওয়াসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে শুধু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নামও যুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “এই মামলাটি রাষ্ট্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। যে কোনো মূল্যে বিচারের মুখোমুখি হওয়া দরকার যারা এই ভয়াবহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।”

এই মামলার পরবর্তী ধাপে তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই প্রতিবেদন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এখন নজর রয়েছে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই-আগস্ট গণহত্যার দায় শেখ হাসিনার, দাবি চিফ প্রসিকিউটরের

আপডেট সময় ০৪:২৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

 

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া সকল হত্যাকাণ্ডের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এসব হত্যার উসকানি, প্ররোচনা এবং সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। ফলে, গণহত্যার পূর্ণ দায়ভার তার ওপর বর্তায়।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “জুলাই গণহত্যার প্রতিটি ঘটনার পেছনে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি শেখ হাসিনার। তিনি একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।”

আরও পড়ুন  জুলাই হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

এর আগে সোমবার সকাল ১১টার দিকে তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর ও তদন্ত কর্মকর্তারা গণহত্যা সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও সরাসরি নির্দেশ দেওয়াসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে শুধু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই তদন্ত শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নামও যুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “এই মামলাটি রাষ্ট্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। যে কোনো মূল্যে বিচারের মুখোমুখি হওয়া দরকার যারা এই ভয়াবহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।”

এই মামলার পরবর্তী ধাপে তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই প্রতিবেদন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এখন নজর রয়েছে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।