ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় গ্রিডে আগস্টেই যুক্ত হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:০৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 1

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলতি বছরের আগস্টের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি অনুযায়ী ওই সময় প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। বর্তমানে প্রকল্পটি কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে, যা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন  ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোয় নতুন বিপর্যয়

মন্ত্রী জানান, ইউনিট-১-এর স্টেজ-বি কার্যক্রমের আওতায় গত ২৮ এপ্রিল থেকে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি স্থাপন, বোরিক অ্যাসিড সংযোজন, রিঅ্যাক্টর ও প্রাইমারি সার্কিটের বিভিন্ন পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই, সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা এবং অন্যান্য কমিশনিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বিত পরীক্ষা এবং নিম্নক্ষমতায় রিঅ্যাক্টর পরিচালনার মাধ্যমে স্টার্টআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। প্রথমে ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং পরে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর জ্বালানি লোডিং শুরুর প্রায় ১১৪ দিন পর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় গ্রিডে আগস্টেই যুক্ত হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ

আপডেট সময় ০৮:০৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলতি বছরের আগস্টের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি অনুযায়ী ওই সময় প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। বর্তমানে প্রকল্পটি কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে, যা বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন  গরমে লোডশেডিং সীমিত রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা চলছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

মন্ত্রী জানান, ইউনিট-১-এর স্টেজ-বি কার্যক্রমের আওতায় গত ২৮ এপ্রিল থেকে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি স্থাপন, বোরিক অ্যাসিড সংযোজন, রিঅ্যাক্টর ও প্রাইমারি সার্কিটের বিভিন্ন পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই, সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা এবং অন্যান্য কমিশনিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বিত পরীক্ষা এবং নিম্নক্ষমতায় রিঅ্যাক্টর পরিচালনার মাধ্যমে স্টার্টআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। প্রথমে ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং পরে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর জ্বালানি লোডিং শুরুর প্রায় ১১৪ দিন পর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।