ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
ডারউইনে ইতিহাস, ওয়াসিম আকরামদের পাশে হাসান মাহমুদ মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি কমাতে হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী তথ্যসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করা হবে: তথ্যমন্ত্রী জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারে মৎস্য, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে ও থাকবে, ট্রাম্পকে তেহরানের কড়া জবাব আলোচনার টেবিলে বসতে মিসর যাচ্ছেন হামাস প্রধান তিন ইরানি পাইলটকে আটকের অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন বৈধ বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা

হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে ও থাকবে, ট্রাম্পকে তেহরানের কড়া জবাব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 16

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ‘ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানিই থাকবে’। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি বলেছেন, কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, বিমানবাহী রণতরি বা প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে পরাজিত করার পর শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন তিনি। এর জবাবে কাজেম ঘরিবাবাদি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ইরান পরাজিত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, কোনো টুইট, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার কিংবা প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে এই প্রণালি দখল করা যায় না। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশলগত ও বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে, ট্রাম্পকে অন্তত সেই বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে চাকরি হারানো কর্মীদের হতাশা: ‘ভেবেছিলাম উন্নতি হবে, কিন্তু হলো বিপর্যয়’

এর আগে নিউইয়র্কে পুলিশ অ্যাকাডেমির এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প হেসে হেসে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি ‘দুষ্ট দেশকে’ থামাতে সামান্য বেশি দামে পেট্রোল কেনাও অর্থবহ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরে হোয়াইট হাউসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন যে ট্রাম্প ওই মন্তব্য মূলত রসিকতা করে করেছিলেন।

এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। মার্কিন নৌঅবরোধ এমন একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ তৈরি করেছে, যা ভেদ করার সক্ষমতা ইরানের নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের ওই দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় ইরানের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড ‘খাতাম-আল আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইব্রাহিম জুলফাগারির দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের সমালোচনা করেন। তার দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভুল হিসাব করছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়েও তারা আরও বড় ধরনের ভুল ধারণায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে ও থাকবে, ট্রাম্পকে তেহরানের কড়া জবাব

আপডেট সময় ০৬:২৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরান বলেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ‘ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানিই থাকবে’। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি বলেছেন, কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, বিমানবাহী রণতরি বা প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে পরাজিত করার পর শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন তিনি। এর জবাবে কাজেম ঘরিবাবাদি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি কেবল ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ইরান পরাজিত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, কোনো টুইট, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার কিংবা প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে এই প্রণালি দখল করা যায় না। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশলগত ও বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে, ট্রাম্পকে অন্তত সেই বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন  ইরান দ্রুত পরাজিত হবে, দাবি ট্রাম্পের

এর আগে নিউইয়র্কে পুলিশ অ্যাকাডেমির এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প হেসে হেসে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি ‘দুষ্ট দেশকে’ থামাতে সামান্য বেশি দামে পেট্রোল কেনাও অর্থবহ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরে হোয়াইট হাউসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করেন যে ট্রাম্প ওই মন্তব্য মূলত রসিকতা করে করেছিলেন।

এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। মার্কিন নৌঅবরোধ এমন একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ তৈরি করেছে, যা ভেদ করার সক্ষমতা ইরানের নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের ওই দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় ইরানের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ড ‘খাতাম-আল আনবিয়া’র মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইব্রাহিম জুলফাগারির দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের সমালোচনা করেন। তার দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভুল হিসাব করছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়েও তারা আরও বড় ধরনের ভুল ধারণায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।