জুলাই গ্রাফিতি মোছার মেয়র কোনো নির্দেশনা নেই; চসিকের বিবৃতি
- আপডেট সময় ১২:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / 76
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র অপসারণের বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে চসিক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার (১৭ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে এই চসিক।
চসিকের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সব সময়ই নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে আসছেন। নগরের কোথাও জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে, চসিকের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নগরীর অবৈধ দেয়াললিখন, বিভিন্ন বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক ব্যানার-পোস্টার এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, কোনো শিল্পকর্ম, শিক্ষামূলক বা সামাজিক সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অপসারণের কোনো ইচ্ছে তাদের নেই এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো অত্যন্ত আবেগঘন স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি অপসারণের তো প্রশ্নই আসে না। এই বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়াতে চসিক নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে, জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ ওঠার পর এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মিডিয়া সেলের প্রধান রিদুয়ান হৃদয়। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার স্পর্ধা মেয়রকে কে দিয়েছে? এই জুলাইয়ের রক্তস্নাত রাজপথ এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের কারণেই আজ তাঁর নামের আগে ‘মেয়র’ তকমা যুক্ত হতে পেরেছে।”
এনসিপি নেতা আরও অভিযোগ করেন, এই দেয়াললিখনগুলো কেবল সাধারণ রং-তুলির আঁচড় নয়; এগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের টিফিনের বাঁচানো টাকা, সাধারণ মানুষের অনুদান ও ঘামের প্রতীক, যা দিয়ে তারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল। বিপ্লবের এই পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলে সেখানে বাণিজ্যিক বিলবোর্ড বসানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ক্ষমতার অহংকারে জুলাইয়ের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা রাজপথে এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।


























