মায়েদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় ০৭:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 72
আসন্ন নতুন বাজেটে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’-এর বরাদ্দ আরও বড় পরিসরে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, দেশের ৪ কোটি পরিবারের মা ও বোনদের কাছে পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে প্রতি মাসে তাদের হাতে ২৫০০ টাকা করে তুলে দেওয়া হবে।
আজ শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ঐতিহাসিক ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী মায়েদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের ২৫০০ টাকা দিয়ে মায়েরা যেন পরিবারের শিশুদের লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যের যত্ন ঠিকঠাক নিতে পারেন এবং ছোট ছোট ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই পরিকল্পনা। কারণ একজন মা স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত হলে পুরো পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে।” একই সঙ্গে দেশের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য চালু হওয়া ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের পরিধিও ধীরে ধীরে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “বর্তমানে যে বাজেটটি চলছে, সেটি মূলত বিএনপি সরকারের করা বাজেট নয়; এটি পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি করা বাজেট। সেই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের জন্য কোনো প্রকার অর্থ বরাদ্দ রাখা ছিল না। তবে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এবার আপনাদের নিজেদের বিএনপি সরকার নতুন বাজেট তৈরি করছে এবং এই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
চাঁদপুরের অবহেলিত খাল খনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “খাল যদি সঠিকভাবে খনন ও সংস্কার করা না হয়, তবে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাবেন না। আমরা যদি সবাই হাতে হাত মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তবে এই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যখন একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে নেমে আসবে, তখন ইনশাআল্লাহ এই দেশকে পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
সমাবেশে উপস্থিত হাজারো জনতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আজ থেকে আমাদের সবার একটাই লক্ষ্য এবং প্রতিজ্ঞা হোক—দেশ গঠন, দেশ গড়া এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা। নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের সামনে বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর ধাপে ধাপে তার সবগুলোই বাস্তবায়ন করা হবে।” প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী ঘোষণায় উপস্থিত চাঁদপুরবাসীর মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আশার আলো দেখা গেছে।






















