ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

ছেলেকে হত্যার পর বাবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 113

ছবি সংগৃহীত

 

গাজীপুরের টঙ্গীতে পারিবারিক কলহ ও নেশার করাল গ্রাসে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাকিবকে (১৮) নৃশংসভাবে হত্যার পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা সোহেল (৫০)। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিব উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি চাকরিতেও কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা সোহেল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

আরও পড়ুন  পানছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে সংসারের হাল ধরেছিলেন এবং বাবাকে সহযোগিতা করতেন। তবে বাবা সোহেল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা বা পারিবারিক কোনো বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলে সাকিবের হাতের রগ কেটে দেন সোহেল। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সাকিবের মৃত্যু হয়। ছেলেকে হত্যার পর সোহেল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং নিকটস্থ রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটান। আজ সকালে রেললাইন থেকে তাঁর ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিহত সাকিবের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের মাঝে এই ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নেশার ভয়াবহতা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ছেলেকে হত্যার পর বাবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ

আপডেট সময় ১১:২৮:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

 

গাজীপুরের টঙ্গীতে পারিবারিক কলহ ও নেশার করাল গ্রাসে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাকিবকে (১৮) নৃশংসভাবে হত্যার পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা সোহেল (৫০)। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাকিব উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি চাকরিতেও কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা সোহেল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

আরও পড়ুন  শিশু রামিসা হত্যা: ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করে সংসারের হাল ধরেছিলেন এবং বাবাকে সহযোগিতা করতেন। তবে বাবা সোহেল দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা বা পারিবারিক কোনো বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলে সাকিবের হাতের রগ কেটে দেন সোহেল। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সাকিবের মৃত্যু হয়। ছেলেকে হত্যার পর সোহেল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং নিকটস্থ রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটান। আজ সকালে রেললাইন থেকে তাঁর ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিহত সাকিবের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের মাঝে এই ঘটনায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নেশার ভয়াবহতা রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।