ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

চব্বিশে সম্মিলিত আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে : রাষ্ট্রপতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 149

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে এক পর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসী তথা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলসহ সবার সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে এদিন জাতীয় সংসদে হট্টগোল করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।

আরও পড়ুন  ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা : প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল এবং এই নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির আন্তরিক উদ্যোগ এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে।

আমি এই সংসদে আপনার মাধ্যমে (স্পিকার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি এই মহান জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সব সংসদ সদস্যকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর-উত্তম), স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সব অবিসংবাদিত নেতার অবদানকেও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমি, তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে প্রতিবার সামনের কাতারে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। নারী, পুরুষ, শিশুসহ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ। পাঁচ শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছেন।’

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলমান রয়েছে। ১৩৭ জন গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আহতদের ১২ হাজার ৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তা ও ভাতা অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা, উন্নয়ন, দিবস উদযাপনসহ নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

চব্বিশে সম্মিলিত আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে : রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৫:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে এক পর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসী তথা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলসহ সবার সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে এদিন জাতীয় সংসদে হট্টগোল করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।

আরও পড়ুন  ক্রোয়েশিয়া সমুদ্র, ইতিহাস আর ইউরোপীয় সৌন্দর্যের দেশ

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল এবং এই নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির আন্তরিক উদ্যোগ এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে।

আমি এই সংসদে আপনার মাধ্যমে (স্পিকার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি এই মহান জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সব সংসদ সদস্যকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর-উত্তম), স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সব অবিসংবাদিত নেতার অবদানকেও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমি, তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে প্রতিবার সামনের কাতারে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। নারী, পুরুষ, শিশুসহ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ। পাঁচ শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছেন।’

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলমান রয়েছে। ১৩৭ জন গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আহতদের ১২ হাজার ৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তা ও ভাতা অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা, উন্নয়ন, দিবস উদযাপনসহ নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’