ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

আবরার হত্যার রায় ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী সতর্কবার্তা: অ্যাটর্নি জেনারেল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
  • / 412

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এ রায় ছাত্র রাজনীতির জন্য কঠোর বার্তা।”

রবিবার (১৬ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করাও অপরাধের শামিল : অ্যাটর্নি জেনারেল

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাত। বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরদিন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে, ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে ভিত্তিহীন অভিযোগে আবরারকে টানা নির্যাতন করা হয়। তদন্ত শেষে ১৩ নভেম্বর পুলিশ ২৫ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয় ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এবং পুনরায় ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর। সর্বশেষ ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের মধ্যে রয়েছেন বুয়েট ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদাধিকারী নেতারা, যার মধ্যে আছেন মেহেদী হাসান রাসেল, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার অপু, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন প্রমুখ। অন্যদিকে, যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মুহতাসিম ফুয়াদ, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, আকাশ হোসেন ও মোয়াজ আবু হোরায়রা।

আবরার হত্যাকাণ্ড দেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতির অপব্যবহার ও সহিংসতার এক নির্মম উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। হাইকোর্টের রায় এই বার্তা দেয় যে, অপরাধ করলে তার শাস্তি নিশ্চিত। এই রায় শিক্ষার্থীদের জন্য সতর্ক সংকেত, যেখানে রাজনীতির নামে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আবরার হত্যার রায় ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী সতর্কবার্তা: অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট সময় ০২:৩৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এ রায় ছাত্র রাজনীতির জন্য কঠোর বার্তা।”

রবিবার (১৬ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন মুখ অধ্যাপক সি আর আবরার, আজ শপথ গ্রহন

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাত। বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরদিন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে, ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে ভিত্তিহীন অভিযোগে আবরারকে টানা নির্যাতন করা হয়। তদন্ত শেষে ১৩ নভেম্বর পুলিশ ২৫ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয় ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এবং পুনরায় ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর। সর্বশেষ ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের মধ্যে রয়েছেন বুয়েট ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদাধিকারী নেতারা, যার মধ্যে আছেন মেহেদী হাসান রাসেল, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার অপু, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন প্রমুখ। অন্যদিকে, যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মুহতাসিম ফুয়াদ, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, আকাশ হোসেন ও মোয়াজ আবু হোরায়রা।

আবরার হত্যাকাণ্ড দেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতির অপব্যবহার ও সহিংসতার এক নির্মম উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। হাইকোর্টের রায় এই বার্তা দেয় যে, অপরাধ করলে তার শাস্তি নিশ্চিত। এই রায় শিক্ষার্থীদের জন্য সতর্ক সংকেত, যেখানে রাজনীতির নামে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।