ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

রোহিঙ্গাদের রেশন সংকট: জাতিসংঘের বরাদ্দ অর্ধেকে নামছে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫
  • / 385

ছবি সংগৃহীত

 

কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ করা খাদ্য রেশন অর্ধেকেরও বেশি কমানোর পরিকল্পনা করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছে।

বুধবার (৬ মার্চ) শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে ডব্লিউএফপি জানায়, আগামী এপ্রিল মাস থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য বরাদ্দ অর্ধেকেরও বেশি কমতে পারে। সংস্থাটি জানায়, অর্থ সংকটের কারণে তারা পূর্ববর্তী বরাদ্দ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সহায়তা বন্ধের হুমকি, সংকটে ইউক্রেন

এর আগে, গত মঙ্গলবার মৌখিকভাবে রেশন কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ডব্লিউএফপি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের মাথাপিছু মাসিক রেশন ১২.৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলারে নামিয়ে আনা হবে। এ প্রসঙ্গে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, “ডব্লিউএফপি আমাদের জানিয়েছে যে, তারা রোহিঙ্গাদের জন্য মাথাপিছু প্রতি মাসে ১২.৫০ ডলার বরাদ্দ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় দাতা না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেশন কমানোর ফলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে খাদ্য সংকট আরও প্রকট হতে পারে। ইতোমধ্যেই অনেক রোহিঙ্গা স্বল্প আহারের কারণে অপুষ্টিতে ভুগছে। নতুন এই সংকট তাদের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের কারণে দাতাদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। তবে রোহিঙ্গাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে। নতুন রেশন সংকটের কারণে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের রেশন সংকট: জাতিসংঘের বরাদ্দ অর্ধেকে নামছে

আপডেট সময় ০৫:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

 

কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ করা খাদ্য রেশন অর্ধেকেরও বেশি কমানোর পরিকল্পনা করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছে।

বুধবার (৬ মার্চ) শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে ডব্লিউএফপি জানায়, আগামী এপ্রিল মাস থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য বরাদ্দ অর্ধেকেরও বেশি কমতে পারে। সংস্থাটি জানায়, অর্থ সংকটের কারণে তারা পূর্ববর্তী বরাদ্দ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মুজিবনগর সীমান্তে এক রোহিঙ্গাসহ ১৫ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠালো বিএসএফ

এর আগে, গত মঙ্গলবার মৌখিকভাবে রেশন কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ডব্লিউএফপি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের মাথাপিছু মাসিক রেশন ১২.৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলারে নামিয়ে আনা হবে। এ প্রসঙ্গে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, “ডব্লিউএফপি আমাদের জানিয়েছে যে, তারা রোহিঙ্গাদের জন্য মাথাপিছু প্রতি মাসে ১২.৫০ ডলার বরাদ্দ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় দাতা না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেশন কমানোর ফলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে খাদ্য সংকট আরও প্রকট হতে পারে। ইতোমধ্যেই অনেক রোহিঙ্গা স্বল্প আহারের কারণে অপুষ্টিতে ভুগছে। নতুন এই সংকট তাদের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের কারণে দাতাদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। তবে রোহিঙ্গাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে। নতুন রেশন সংকটের কারণে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।