ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০ বছর পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 45

ছবি সংগৃহীত

 

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের ভোটে ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতার’ বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত প্রস্তাবটি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ২৩ ভোটে পাস হয়। এর ফলে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হলো।

প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তিন দেশ—রাশিয়া, চীন ও নাইজার। ভোটদানে বিরত ছিল আটটি দেশ। এতে আইএইএর মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘প্রতিবেদন করার’ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ বৈঠক শেষে, উঠে এলো যেসব সিদ্ধান্ত

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর প্রবেশাধিকার বন্ধ রয়েছে। ওই সংঘাতে এসব স্থাপনায় হামলাও চালানো হয়েছিল।

সর্বশেষ যুদ্ধেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের পর থেকে আইএইএ বারবার এসব স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের আনা প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আইএইএর পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিষয়টি এখন নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় যাচ্ছে।

তবে এই পদক্ষেপকে অনেকটা প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব এলে ইরানের মিত্র রাশিয়া ও চীন ভেটো দিতে পারে।

এদিকে আইএইএর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না।

আইএইএতে ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই প্রস্তাবটি পাস হয়েছে এবং ইরানের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই।

এএফপিকে নাজাফি বলেন, প্রস্তাবটি যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, এর ফল তার সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

২০ বছর পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরান

আপডেট সময় ১০:২৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের ভোটে ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতার’ বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত প্রস্তাবটি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ২৩ ভোটে পাস হয়। এর ফলে ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানকে নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হলো।

প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তিন দেশ—রাশিয়া, চীন ও নাইজার। ভোটদানে বিরত ছিল আটটি দেশ। এতে আইএইএর মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘প্রতিবেদন করার’ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে শুরু হচ্ছে বৃহৎ মহড়া

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর প্রবেশাধিকার বন্ধ রয়েছে। ওই সংঘাতে এসব স্থাপনায় হামলাও চালানো হয়েছিল।

সর্বশেষ যুদ্ধেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের পর থেকে আইএইএ বারবার এসব স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের আনা প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আইএইএর পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিষয়টি এখন নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় যাচ্ছে।

তবে এই পদক্ষেপকে অনেকটা প্রতীকী হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব এলে ইরানের মিত্র রাশিয়া ও চীন ভেটো দিতে পারে।

এদিকে আইএইএর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না।

আইএইএতে ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই প্রস্তাবটি পাস হয়েছে এবং ইরানের দৃষ্টিতে এর কোনো ভিত্তি নেই।

এএফপিকে নাজাফি বলেন, প্রস্তাবটি যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, এর ফল তার সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে।